সর্বশেষ সংবাদঃ

মাতৃভাষায় বই পেলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক:
প্রাক-প্রাথমিকের পর এবার প্রথম শ্রেণিতে মাতৃভাষায় বই পেলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের বই। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলী জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলায় মোট ১ লাখ ১০ হাজার বই বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে ২৫ হাজার বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে সোমবার (০১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটিতে বউ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বনরূপা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতৃ চাকমা। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আলী, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মনসুর আলী, বনরূপা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অর্চনা তালুকদারসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এ বছর চাকমা ভাষায় ১০ হাজার ৬৫৩, মারমা ভাষায় ৩ হাজার ১০৮ ও ত্রিপুরা ভাষার জন্য ৭শত ৭০ জন শিক্ষার্থীকে মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের বই দেওয়া হবে। আর প্রথম শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ৭ হাজার ৩৮৫, মারমা ভাষায় ১ আটশত ৯৩, ত্রিপুরা ভাষার জন্য ৬শটি বই পাবে শিক্ষার্থীরা। আর গত বছর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য‌ চাকমা ভাষায় ১০ হাজার ৮২, মারমা ২ হাজার ১৬৬ ও ত্রিপুরা ভাষায় ৫৮৩ জন বই পেয়েছিল।

নতুন বই নিতে আসা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, আমরা তো নিজ ভাষায় পড়তে পারিনি। আমাদের ছেলে-মেয়েদের নিজ ভাষার অক্ষর জানার সুযোগ হলো। নিজের ভাষায় বর্ণমালা সম্পর্কে জানতে পারবে, লিখতে পারবে ও পড়তেও পারবে। সন্তানরা মাতৃভাষায় বই পাওয়ায় আমাদের খুবই ভালো লাগছে।

রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতৃ চাকমা বলেন, গত বছর আমাদের প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকাতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে এবছর সমস্যা হবে না। আর এখনও যেসব শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ পাননি, তাদের জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জেলায় ১৮৮ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, কিন্তু আছে মাত্র ৮৮ জন। বাকিরা পার্বত্য অঞ্চল দেখে এখানে থাকতে চায় না। আজকের শিশুরা একদিন চিকিৎসক হবে, সেদিন প্রতিটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে সেবা দেবে।

২০১৭ সালে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিশুদের জন্য নিজ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে সরকার। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষায় শিক্ষক সহায়িকা ও শিখন চর্চা খাতা পায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা।

সূক্র: বাংলা ট্রিবিউন।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares