সর্বশেষ সংবাদঃ

আকার বাড়ছে মন্ত্রিসভার, আজ শপথ

অনলাইন ডেস্ক:
সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় মন্ত্রিসভায় যোগ হচ্ছেন নতুন কয়েকজন; সেই সঙ্গে পুরনোদের রদবদলের আভাসও মিলেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ন চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হচ্ছেন; রাজবাড়ীর এমপি কাজী কেরামত আলী এবং লক্ষ্মীপুরের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন বঙ্গভবনে।

তারা তিনজনই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বারও প্রস্তুত থাকার ইংগিত পেয়েছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হক মারা যাওয়ার পর গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে তার পদটি শূন্য রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্রকে সেই দায়িত্বই দেওয়া হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে কর্মকর্তাদের কথায়।

সোমবার দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্রের মন্ত্রী হওয়ার খবর নিয়ে আলোচনা চলছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোন পাওয়ার পর কক্ষ বদলের জন্যও তৎপরতাও দেখা গেছে।

বিজয় বাংলা কিবোর্ডের উদ্ভাবক মোস্তফা জব্বার (৬৮) যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাকে মন্ত্রিসভায় আনতে হবে টেকনোক্র্যাট হিসেবে। বাকিরা কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন তা মঙ্গলবার শপথের পরই স্পষ্ট হবে।

৭২ বছর বয়সী নারায়ন চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে নারায়ন চন্দ্রকে দেওয়া হয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

সোমবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মন্ত্রিপরিষদ সচিব আজ দুপুরে আমাকে ফোন করেছিলেন। আগামীকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার জন্য বলেছেন।”

কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মত এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

৬৩ বছর বয়সী কেরামত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মন্ত্রিপরিষদ সচিব দুপুরে ফোন করেছিলেন আমাকে। কাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলেছেন।”

আর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ শাহজাহান কামাল বলেছেন, সন্ধ্যা ৬টায় শপথ হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।

৭২ বছর বয়সী শাহজাহান কামাল দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপাতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাই অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

কয়েকজনের শপথ ছাড়াও মন্ত্রিসভায় আরও কিছু রদবদল আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে সচিবালয়ে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা কালই জানতে পারবেন।”

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়েছেন এমন দুই-একজনকে বাদ দিয়ে নতুন দুই-একজনকে আনা হতে পারে। কারও কারও দপ্তরও বদল হতে পারে।”

মন্ত্রিসভায় যত রদবদল

গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কোনো পরিবর্তন আনেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল; যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুইজন উপমন্ত্রী।

এর দেড় মাসের মাথায় এ এইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য অক্টোবরে মন্ত্রিত্ব খোয়ান লতিফ সিদ্দিকী।

২০১৫ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।

এর পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে মন্ত্রী এবং তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই দিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ইয়াফেস ওসমান।

এর দুই দিন পর ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০১৬ সালের ১১ মে। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য থেকে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।

গত বছরের শেষ দিকে এসে ১৬ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারে ৩০ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুইজন উপমন্ত্রী আছেন।

এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।

সূত্র: বিডিনিউজ।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares