সর্বশেষ সংবাদঃ

কোরান ও হাদিসের আলোকে সাম্পদ্রায়িক সম্প্রীতি মুসলিম প্রধান দেশে অমুসলিমদের অধিকার

লিয়াকত আলী:
ইসলাম শব্দের আভিধানিক অর্থ শান্তি। নামের মধ্যেই কর্ম প্রস্ফুটিত। এইটা একটা পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। যেখানে হিংসা হানা হানি রক্তপাত বা সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নাই। বিপদগামীরা বা ইহুদী নাসারা দের দালালরা যে “জিহাদ” শব্দটির অপব্যাখ্যা করে ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করছে – তাহার বাংলা অর্থ ” সংগ্রাম বা আন্দোলন বা প্রতিবাদ বা Struggle বা Strive বা warfare যার অর্থ বিকৃত করে “Holy War” বা ধর্মের জন্য “পবিত্র যুদ্ধ” বলা হয়। ধর্মের জন্য পবিত্র যুদ্ধকে আরবিতে ” হারবে মুক্বাদ্দাসা” বলা হয় – যা পবিত্র কোরানের কোথায়ও উল্লেখ নাই। তবে যুদ্ধকে আরবীতে ” হারব বা কিতাল”ও বলা হয়।

মহানবী সা: ইসলাম প্রচারের শুরুর দিকে আরবের বিধর্মীরা সবাইর উপর অনেক নির্যাতন চালায়। তাদের নির্যাতনে অনেক সাহাবী শহীদ হন। সর্বোচ্চ সহনশীলতার ধর্ম ইসলাম তাই দীর্ঘ ১৩ বছর কোনরূপ প্রতিবাদ না করে অমানুষিক নির্যাতনের কারনে মহানবী সা: সাহাবীদের নিয়া মদিনায় চলে যান। আরব থেকে কাফেররা আরো বেশী সংঘবদ্ধ হয়ে মদিনা আক্রমন করেন। তখন আল্লাহ তায়লা জিব্রাইলের মাধ্যমে ওহি নাজির করে আত্মরক্ষাতে যুদ্ধ করার অনুমতি দেন। ফলে এই প্রথম “কিতাল” শব্দটি আল কোরানে স্থান পায়।

ইসলামে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই

রাসুল করিম সা: যখন মদিনায় রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন তখন ইহুদী খ্রীষ্ঠানদের সাথে একটা চুক্তি করেন যাকে বলা হয়” Charter of Madina বা মদিনার সনদ। ” এই সনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল – যাতে লেখা ছিল,
” প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। “

ইসলাম পুরো মানব জাতিকে, ” উম্মতে ওয়াহিদা বা একটি সম্প্রদায় ” হিসাবে গন্য করে। আল্লাহ তায়ালাকে,
” রাব্বিল আলামিন বা বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা” হিসাবে মুসলমানরা বিশ্বাস করে এবং হযরত মোহাম্মদ সা: কে,
“রাহমাতুল্লিল আলামিন” তথা বিশ্ব জগতের জন্য করুনার মূর্তপ্রতিক হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে।
অনুরূপ ভাবে আল কোরানকে বিশ্বপ্রভু, “হুদাল্লিন্নাসি” তথা মানব জাতির জন্য পদ প্রদর্শক হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
তাই জগতের সকল মানুষ এক আল্লাহর পরিবারভুক্ত – এই নিয়মই ইসলামে স্বীকৃত।
যেখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সুযোগ নাই।
শান্তিতে একসাথে বসবাস করার জন্য অনুপ্রানিত করছে।

আসুন এবার জানি আল কোরানে এই সংক্রান্তে কি বলেছে মহান সৃষ্টিকর্তা

আল্লাহ বলেছেন,” দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো বাড়াবাড়ি নাই। ”
(সুরা বাকারা : ২৫৬)

” আল্লাহ নিষেধ করেন না সে সকল লোকদের সাথে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্ম কেন্দ্রিক যুদ্ধ করে নি এবং তোমাদের আবাসভুমি হইতে তোমাদের বের করে দেয় নি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ কারীদের পছন্দ করেন। ”
(সুরা – আল-মুমতাহিনা, আয়াত 8)

সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ, ইসলাম সমর্থন করে না নিরাপরাধ মানুষ হত্যা।
পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ” নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে দুনিয়ার সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল। ‘
(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩২)

জিহাদের নামে মানব হত্যা রুখতে হবে সবাইকে।

এবার দেখেন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে অমুসলিমদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোরান ও হাদিসে কি আছে:
যে মুসলিম ব্যক্তি মুসলমান রাষ্ট্রে বসবাসকারী একজন অমুসলিমকে হত্যা করবে সে জান্নাত তো দুরে থাক তার সুগন্ধও পাবেনা যদিও জান্নাতের সুগন্ধ ৪০ বছর সমপরিমাণ দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়”।
(সহীহ বূখারী সংখ্যা-৩,হাদিস নং-২৯৯৫।)

 এ বিষয়ে সুরা তওবাতে স্পষ্ট পথ দেখানো আছে-
” তোমাদের কাছে বিপদে পড়ে কোন প্রতিমা পূজারীও যদি আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয় দিও, তাকে আল্লাহর কালাম শুনিও। তারপর সে আল্লাহর কালাম অস্বীকার করলেও বিপদ কেটে গেলে তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিও। ?
(সূরা তওবা: ৬)

পবিত্র কোরানে অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে আরও বলা আছে,
” অন্য ধর্মাবলম্বীরা যাদের উপাসনা করে তোমরা তাদের উপাসক সম্বদ্ধে কটু কথা বলো না, কারণ এর ফলে তারা আল্লাহ সম্বদ্ধেও কটু কথা বলতে পারে।
(সূরা আনাম: ১08)

 মানুষ হত্যার বিষয়ে এক হাদিসে আছে,
“দুনিয়া ধ্বংসের চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণ্যতম কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।”
(তিরমিজি শরিফ)

এত লম্বা লিখা পড়তে অনেকেরই ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে।তাই লিখার বাকী অংশ পরের কিস্তিতে লেখা হবে

তবে এইটুকু লেখার যদি আমরা দুই লাইনে বিশ্লেষন করি। তাহলে এইটা সুষ্পষ্ট যে অমুসলিমদের কোনোরূপ ক্ষতি করা তো দুরের কথা। বরং তাদের জান মালের নিশ্চয়তা বিধান এবং আতংক ও শংকামুক্ত করা সকল মমিন দের ধর্মীয় বাধ্যবাদকতায় ঈমামী দায়িত্ব।

 

লেখক: অফিসার ইনচার্জ, রামু থানা।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares