সর্বশেষ সংবাদঃ

আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

নীতিশ বড়ুয়া, রামু:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, কক্সবাজারের শ্রেষ্ট সমাজ সেবক, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদুত, বিশিষ্ট আওয়ামীগ নেতা ও কক্সবাজার মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী ২৭ আগষ্ট।

বরণ্যে এ রাজনীতিকের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজারের রামুতে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী স্মৃতি পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেছে।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- মরহুমের সুযোগ্য পুত্র আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র বাস ভবন “ওসমান ভবন” এ সকাল ১০ টায় খতমে কোরআন ও মিলাদ, ১১ টায় শোক র‌্যালী ও মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র কবর জিয়ারত এবং প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন ও বিকাল ৩ টায় রামু চৌমুহনী ষ্টেশনে স্মৃতিচারণ সভা।

চৌমুহনী চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য স্মৃতিচারণ সভায় আলোচক হিসেবে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ঘনিষ্ট সহচরদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা প্রধান অতিথি, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার মোহাদ্বিস হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী, বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা রফিক আহমদ চৌধুরী, মোঃ ইউনুচ বাঙ্গালী, মাষ্টার নুরুল আজিম, রশিদ আহমদ, নুরুল ইসলাম বাঙ্গালী চেয়ারম্যান, গোলাম কবির মেম্বার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ স্মৃতিচারন করবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহিম চৌধুরী।

অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের আহবায়ক রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম ও যুগ্ন আহবায়ক, জেলা পরিষদ সদস্য শামশুল আলম চেয়ারম্যান, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় গৃহিত কর্মসুচীতে অংশ গ্রহন করতে সকল শুভানুদ্বায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়ছেন।
আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর

কর্মময় জীবনঃ

জন্ম :
বিশ্বনন্দিত পর্যটন নগরী তথা বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমান্ত জনপদের সমুদ্র সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সংসদ সদস্য, কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ সমাজসেবক, বর্ণাঢ্য রাজনীতিক মরহুম আলহাজ¦ অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ অক্টোবর রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মালেকুজ্জামান সিকদার।

শিক্ষা :
ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ১৯৫৫ সালে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজ থেকে আইএ, ১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে এমএ পাশ করেন।

রাজনৈতিক জীবন :
কক্সবাজার জেলার সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ওই সময় এলাকার কতিপয় চিহ্নিত পাক-হানাদার, রাজাকার, আলবদর বাহিনী তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০-১৯৭৩ সালে রামু-উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকা হতে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ বন মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত-এর দায়িত্ব পালন করেন।

সমাজকর্ম :
সফল রাজনীতিক আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ছিলেন। নারী ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, সমাজসেবা আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিরল দৃষ্টাস্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস আর দরিদ্র মানুষের দুর্দিনে নিজেকে উৎসর্গ করতেন ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অনন্য ভূমিকা। বর্ণিল কর্মময় জীবনের অধিকারী এ রাজনীতিককে তাই এখনো পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে মানুষ।

১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ-পুর্নবাসন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। রেডক্রস সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে মায়ানমারের শরণার্থীদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি কক্সবাজার মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ ছিলেন। বেশ কয়েকটি কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া রামু কলেজ, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর অবদান অগ্রগণ্য। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাস্ট্রদূত থাকাকালে সেখানে ‘রাস আল খাইমা উচ্চ বিদ্যালয়’ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালনকালে কক্সবাজার জেলায় ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রনি ভূমিকা পালন করেন।

সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। তিনি ১৯৫৭-১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ সাময়িকী মসিরেখা সম্পাদনা করেন। ১৯৬১-১৯৬২ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের এজিএস ও ১৯৬২-১৯৬৩ সালে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে লাহোরে ছাত্র নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৬৮-৬৯ সালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি, ১৯৬৯-১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম জেলা লবণ উৎপাদক সমিতির সভাপতি, কক্সবাজার মহকুমা রেফারী ও আম্পায়ার এসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি, জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, লায়ন্স কাব, রামু দুর্বার শিল্পীগোষ্ঠিসহ অনেকগুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও উপদেষ্টা ছিলেন।

মৃত্যু :
বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ২০১০ সালের ২৭ আগষ্ট ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, কক্সবাজারের শ্র্রেষ্ট সমাজ সেবক, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, সাবেক বাষ্ট্রদুত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর প্রয়াণে অনেকটা অভিভাবকশূণ্য হয়ে পড়ে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গন।

আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ সপ্তম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে বিন¤্রচিত্তে স্মরণ এবং মহান আল্লাহপাকের কাছে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares