সর্বশেষ সংবাদঃ

ইসির গতিবিধি নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিএনপি

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনকে মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড এবং গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। নির্বাচনী মাঠে সমতা আনতে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় সেদিকেও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে দলটি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফর শেষে দেশে ফিরেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাসহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরবেন। সহায়ক সরকারের রূপরেখা তো তিনি দেবেনই, সেই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ইসির কী ধরনের পদক্ষেপ দেখতে চায় তারও একটি পরিকল্পনা তুলে ধরবে বিএনপি। বিএনপির দাবি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে ইসির কর্মকর্তাদের প্রতি অনাস্থা জানাতে পারে দলটি। যদিও ইতিমধ্যে ইসির কর্মকাণ্ড নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

তারা এও বলছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসি যে কর্মকাণ্ড করছে এবং প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাতে তারা নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। বিএনপির কোনো কোনো নেতা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রও দেখছেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচনী পথনকশা (রোডম্যাপ) দিতে গিয়ে সিইসি বলেছেন- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। সিইসির বক্তব্য আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তেরই প্রকাশ ঘটিয়েছে। সিইসির এহেন মন্তব্যে ভয় পাচ্ছে জনগণ। জনগণের মনে আশঙ্কা, তাহলে আবারও কি ৫ জানুয়ারি স্টাইলে তিনি দেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে যাচ্ছেন?’

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার নকশা সরকারের নির্দেশে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেল।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ দিয়েছে, এটা সরকারের নির্দেশিত রোডম্যাপ। মূলত আওয়ামী সরকারকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে এ রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রংপুর সিটি করপোরেশনে (রসিক) নির্বাচনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে যেকোনো দিন নির্বাচন হবে। রংপুর ছাড়াও আগামী বছর আরো পাঁচটি (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও গাজীপুর) সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে হবে। আগের মতো এবারও চার সিটিতে (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট) একই সঙ্গে নির্বাচন করতে চায় ইসি। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের প্রায় দুই বছর বাকি থাকলেও এরইমধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে কমিশন। শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। আশা করা হচ্ছে, এবার ৩৫ লাখ নতুন ভোটার হবে। নির্বাচনের আগে ইসি ঘোষণা করেছে রোডম্যাপ। যেখানে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নিয়ে সংলাপে বসতে যাচ্ছেন ইসির কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে সুশীল সমাজের ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই কর্মপরিকল্পনায় সাতটি বড় বিষয়ের ওপর কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করে। এরমধ্যে বড় একটা বিষয় ছিল সংলাপ। ৩১ জুলাই সকাল ১১টায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের মধ্যে দিয়ে তা শুরু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে সবার হাতে চিঠি পৌঁছাবে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কারা থাকবেন সংলাপে, জানতে চাইলে সচিব বলেন, যাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে তাদের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কলামিস্ট, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সিভিল সার্ভিসে যারা প্রবীণ ছিলেন যারা দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এমন সচিব বা রাষ্ট্রদূত আছেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব সংলাপে ইসি কী ধরনের এবং কোন বিষয়ে আলোচনা করে ও পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কারা থাকছেন, তারা কী ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ইসি কীভাবে নিরপেক্ষতা দেখায় সেটিই পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনের আগে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলরা নিরপেক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হলে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের নিয়ে অনাস্থা জানাতে পারে দলটি। যদিও দলটির নেতারা এরই মধ্যে অভিযোগ করছেন যে, ইসি সরকারের নির্দেশে কাজ করছে।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় আনা যায়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেই কাজ করছে।’

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে ইসি ঘোষিত রোডম্যাপের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইসির রোডম্যাপের প্রস্তাবনায় মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং এই রোডম্যাপের দ্বারা কীভাবে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা যায় তার চেষ্টা করছে কমিশন।’

দেশের সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ইসির কোনো মাথাব্যথা নেই বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রোডম্যাপের আগে সহায়ক সরকারের ফয়সালা করতে হবে। এই ফয়সালা হতে পারে টেবিলে, ফয়সালা হতে পারে মাঠে। তবে আমরা চাই সহায়ক সরকারের এই ফয়সালা হোক শান্তিপূর্ণভাবে।’

আওয়ামী লীগের রুপরেখাকে বাস্তবায়ন করতেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রোডম্যাপ দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

রিপোর্ট রাইজিংবিডির।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares