সর্বশেষ সংবাদঃ

মোরা’র আঘাতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও সদরে তিনজন নিহত

আমাদের রামু প্রতিবেদক:
ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় দুই উপজেলা চকরিয়া ও সদরের তিনজন নিহত হয়েছেন।এসময় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, মোরা’ কবলে পড়ে জেলার চকরিয়ার উপজেলায় গাছ চাপায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার পূর্ববড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার মৃত নূরুল আলমের স্ত্রী সায়রা খাতুন (৬৫) ও ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব জুমখালীর আবদুল জাব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০)।তারা দুইজনই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আসার পথে গাছ ভেঙে চাপা পড়ে মারা গেছেন।

অন্যদিকে সোমবার কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়ে থাকাকালে ভয়ে স্ট্রোক করেন সমিতি পাড়ার বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৬৪)।অসুস্থ হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান তিনি।এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পুরো জেলাতেই আঘাত করে। এর মধ্যে বেশি আঘাত হয়েছে উপকূলীয় টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা, কুতুবজোম, কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ড ও সদরের পোকখালীতে। তবে আট উপজেলাতেই ব্যাপত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ির ও গাছপালা।

জেলায় প্রায় ২০ হাজার কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ব্যাপক গাছ-গাছালি, বিদ্যুৎ লাইন।ক্ষতি হয়েছে টেকনাফ ও মহেশখালীর পানেরবরজ।এছাড়াও টেলিফোন লাইন, ডিস লাইন বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে পুরো জেলা।

জেলা কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, প্রাথমিকভাবে প্রতি উপজেলায় এক লাখ টাকা ও ১০০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।সেই সঙ্গে আশ্রয় প্রার্থীদের মাঝে প্রতি উপজেলায় দুই হাজার প্যাকেট খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।মোট তিন আশ্রয়প্রার্থী খাদ্য সহায়তা পেয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আরও আসতে পারে।পূর্ণাঙ্গ পরিমাপের জন্য জরিপ করা হবে।জরিপেই পুরো ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভারপ্রাপ্ত বিভীষণ কান্তি দাম বলেন, মহেশখালীতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ছাড়াও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।প্রায় ৩০ শতাংশ পানের বরজ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।এর মধ্যে পাহাড়ি বরজের সংখ্যা বেশি।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানতে সময় লাগবে।ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares