সর্বশেষ সংবাদঃ

দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ হচ্ছে মহেশখালী

দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে কক্সবাজারের দ্বীপ মহেশখালীকে। দ্বীপটি বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল দ্বীপ’ হিসেবে।

চারদিকে জলরাশি, মাঝখানে ছোট ভূখণ্ড। নাম তার মহেশখালী। লবণ উৎপাদন ও পান চাষের জন্য এ দ্বীপের পরিচিতি দেশবাসীর কাছে অনেক আগে থেকেই। এর বাইরেও এই দ্বীপের রয়েছে কিছু নেতিবাচক গল্পও।

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পাহাড়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মহেশখালী উপকূল দিয়ে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতই হবে না, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন রোধসহ অসংখ্য মঙ্গলসাধন হবে। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামো ও মানবসম্পদের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন বিবেচনায় নিয়েই মহেশখালীকে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের দ্বীপ হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ডিজিটাল দ্বীপ।

এজন্য হাতে নেওয়া হয়েছে ‘কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড’ প্রকল্প। কোরিয়ান টেলিকম ও আইওএম গোটা দ্বীপটিকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৪শ’ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলায় মহেশখালী দ্বীপের অবস্থান। প্রায় ৩৬২ দশমিক ১৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মহেশখালী দ্বীপের ৩ লাখ বাসিন্দার জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। ডিজিটাল দ্বীপ প্রকল্পে উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমাধানের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

প্রায় ২২ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার এ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের দরিদ্র লোকজনের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। আর্থসামাজিক বৈষম্য কমে যাবে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বীপের জনগণের অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন কমে যাবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন।

এ ছাড়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মহেশখালীর মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তি সুবিধা পাবে। তাদের শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, তথ্য ও জ্ঞানে প্রবেশাধিকার বাড়বে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘শিক্ষামূলক কর্মসূচি’ চালু ও শিক্ষার্থীদের এমআইএস ডেটাবেইস তৈরি, কৃষকদের জন্য ই-বাণিজ্য সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষ করতে প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রম চালু করা হবে।

জানা গেছে, উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে সফল করতে গত ২০ এপ্রিল মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মহেশখালী নয়, পুরো কক্সবাজারের মান অনেক বেড়ে যাবে। কক্সবাজার একটি আধুনিক শহরে পরিণত হবে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে আরো এগিয়ে যাবে কক্সবাজার।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, ‘দেশে এটিই প্রথম প্রকল্প যে, একটি দ্বীপ ভূমিকে পুরোপুরি ডিজিটাল করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পের অধীনে চুক্তি অনুসারে কোরিয়ান টেলিকম উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যাকবোন অবকাঠামোসহ মহেশখালী ও কক্সবাজার এলাকার মানুষের চাহিদা বিশ্লেষণ করে পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে।’

অন্যদিকে আইওএম এলাকায় মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সরকারের অন্যান্য সংস্থা, কেটি ও আইওএমের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

তথ্য: রাইজিংবিডি।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares