সর্বশেষ সংবাদঃ

রামুর উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বনবিহারে স্বর্গপুরী উৎসব ২১ এপ্রিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি গ্রামের আড়াইশত বছরের পুরনো বৌদ্ধ মন্দির প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারে ‘স্বর্গপুরী’ উৎসব’ আগামী শুক্রবার ২১ এপ্রিল। বিগত ৩১ বছর আগে বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞামিত্র মহাথের রামুতে এই উৎসবের প্রচলন করেছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি প্রয়াত হলে তাঁর প্রধান শিষ্য বর্তমান বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত সারমিত্র মহাথের গ্রামবাসির সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন অব্যহত রাখেন।

বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত সারমিত্র মহাথের জানান, প্রতিবছরের ন্যায় বাংলা নববর্ষের প্রথম শুক্রবার ২১ এপ্রিল মহাসমারোহে স্বর্গপুরী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কারুকার্জ খচিত শৈল্পিক স্বর্গপুরী মন্দির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন রঙের কাজ চলছে। ওই দিন ভোরে গ্রাম প্রদক্ষিণ করে বুদ্ধ পুজার মাধম্যে দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক ও মায়ানমার সরকার কর্তৃক আগ্গামহাস্বধম্মাজ্যোতিকাধ্বজ্ব উপাধীতে ভুষিত পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথের সভাপতিত্ব করবেন।

এতে রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রিন্স অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

স্বর্গপুরীর কারুশিল্পী প্রবীন বড়ুয়া তাঁর সহকারীদের সাথে নিয়ে স্বর্গপুরী মন্দিরের কাজ করছেন পুরোদমে। উৎসব আয়োজনের কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন রঙের শেষ আচঁড় দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। স্বর্গপুরী রামুতে প্রথম এবং একমাত্র উৎসব। এ উৎসবে রামু, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি থেকেও পুণ্যার্থীরা অংশ নেয়। বিশেষ করে রাখাইন সম্প্রদায়ের পুরনো এলাকা হিসেবে এ উৎসবে প্রচুর উপজাতিয় বৌদ্ধ পুজারীর সমাগম হয়। এবছর ও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে কারুশিল্পী প্রবীন বড়ুয়া জানান।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সহকারী পরিচালক, আমাদের রামু ডট কম সম্পাদক ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, স্বর্গপুরী উৎসব এটি কালে সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ অংশে পরিণত হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষকে মূলত জীবদ্দশায় যে কর্ম করে সেই কর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন কুলে তার জন্মান্তর ঘটতে পারে এমন ধারণা দেওয়া হয়। সংসারে মানুষ জন্ম-মৃত্যুর গোলক ধাধাঁয় পড়ে ভবচক্রে ঘুরতে ঘুরতে কখনো স্বর্গও লাভ করতে পারে। কিন্তু সেখান থেকেও নির্দিষ্ট একটা সময়ের পরে তাকে চ্যুত হতে হয়। নিজ নিজ কর্মগুণে এবং কর্মদোষে মানুষ বিভিন্ন কুলে জন্ম গ্রহণ করছে এমন বৌদ্ধিক ধারণা থেকেই উক্ত স্বর্গপুরী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উৎসবে বিভিন্ন বৌদ্ধপল্লী থেকে ভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নেচে গেয়ে বৌদ্ধ কীর্তন সহকারে দল বেঁধে স্বর্গপুরী উৎসবের মেলায় যোগদান করেন। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এই উৎসব উপভোগ করতে আসেন।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares