সর্বশেষ সংবাদঃ

রামু উপজেলার বৌদ্ধ বিহার সমূহঃ

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার

image_70964-copyরামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলাধীন ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরংলোয়া গ্রামে অবস্থিত। ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দে এই বিহার প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় এক একর জমির উপর স্থানীয় বৌদ্ধদের মাধ্যমে বিহারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আগুনে কারুকার্য খচিত লৌহ কাঠনির্মিত প্রাচীন বিহারটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার বর্তমান তিনতলা বিশিষ্ট পাকা ভবনের বিহারটি নির্মাণ করে। মূল বিহারের পাশাপাশি এখানে আরো চারটি স্থাপনা আছে। মন্দির, ভিক্ষু সীমা, বোধিঘর এবং দ্বিতল আবাসিক ভবন।

মন্দিরঃ
মূল বিহারের পূর্ব পাশে ভারতের সারনাথ মন্দিরের আদলে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে রামুর জমিদার মতিসিং বড়ুয়া (মহাজন) এবং তাঁর ভ্রাতা মংপ্রু বড়ুয়া, রমনী বড়ুয়া এবং চাতপ্রু বড়ুয়া উক্ত মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ভিক্ষু সীমাঃ
মন্দিরের পূর্ব পাশে ভিক্ষু সীমা অবস্থিত। এখানে শ্রামণ্য ধর্ম থেকে ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষা দানের বিনয় কর্ম সম্পাদন করা হয় বলে এর নাম ভিক্ষু সীমা। মূল বিহারের নামকরণ এই ভিক্ষু সীমার নামানুসারে সীমা বিহার নামকরণ করা হয়েছে।

এটি ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছে। রামুর জমিদার মতিসিং বড়ুয়া (মহাজন) উক্ত ভিক্ষু সীমা প্রতিষ্ঠা করেন। ভিক্ষু সীমার মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন বুদ্ধমূর্তি আছে।

বোধিঘরঃ
মন্দির এবং ভিক্ষু সীমার দক্ষিণ পাশে একটি প্রাচীন বোধিবৃক্ষ আছে। এই বোধিবৃক্ষের নিচে মন্দিরটি নির্মিত বলেই এর নাম বোধিঘর নামকরণ করা হয়েছে। এর ভেতরে ধ্যানাসনে বসা একটি দৃষ্টিনন্দন বুদ্ধমূর্তি আছে। স্থানীয় জমিদার অঞ্জু বড়ুয়া (মহাজন) এবং তাঁর সহধর্মীনী অলকাদেবী এবং সারদা বড়ুয়া, উমেশ বড়ুয়া, জ্ঞান বড়ুয়া প্রমূখ ১৯৭০ সালে বোধিঘরটি নির্মাণ করেন।

*************************************************************************************************

 

ভুবনশান্তি ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি ও বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র

5225a9d24d804-cox-ram1-copyচট্রগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কের রামু বাইপাস সড়ক থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি নামক গ্রামে ভুবনশান্তি ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি ও বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র অবস্থিত।পর্যটকরা যেকোন ধরণের যানবাহনে করে এখানে ভ্রমণে আসার সুযোগ আছে।

২০০২ সালে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ, একুশে পদকে ভূষিত শ্রীমৎ সত্যপ্রিয় মহাথের’র শিষ্য শ্রীমৎ করুণাশ্রী ভিক্ষু সর্বপ্রথম প্রায় ২ একর জায়গা ক্রয় করে ঝোপ-জঙ্গলে ভরা বাসের অযোগ্য ক্রয়কৃত এই জায়গাটিকে বাসের উপযোগী করে তুলে তারপর সেখানে একটি ধ্যানকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র। বৌদ্ধ বিহার হলে ও মূলত মানুষকে ধ্যানশিক্ষা দান করার জন্যই এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের অনেকে ধ্যান অনুশীলন করেন। এখানে ধ্যানচর্চার অনূকুল পরিবেশ বিরাজ করায় সবাই ধ্যান অনুশীলনে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কিছু দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে বিহারটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরের বছর ২০১৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিহারটি আরো দৃষ্টিনন্দনভাবে পুনঃনির্মাণ করা হয়।

13663367883_1b68439f28_b-copy২০০৬ সালে উক্ত বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রে কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ করুণাশ্রী ভিক্ষু ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি বুদ্ধমূর্তি প্রতিষ্টার কাজ শুরু করেন। ২০০৯ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর নামকরণ করা হয় ভুবনশান্তি ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তি।

উল্লেখ্য, গৌতম বুদ্ধের সময় আরাকান রাজ্য ধান্যবতী নগর হিসেবে পরিচিত ছিল। রাজা চন্দ্রসূর্যের আমন্ত্রণে বুদ্ধ ধান্যবতী নগরে এসেছিলেন। পথিমধ্যে তিনি রামুতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এই বিশ্বাস থেকে ভুবনশান্তি ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধমূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares