সর্বশেষ সংবাদঃ

আমাদের রামু এক্সক্লুসিভ: পূর্ব রাজারকুল বন বিহার সংলগ্ন জাদি বিলুপ্তির মুখে, বেদখলের কবলে জাদিপাহাড়

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু:
পূর্ব রাজারকুলের পূর্বপাশে অপূর্ব পাহাড় শ্রেণী। তবে এই পাহাড় শেণী রাজারকুল ইউনিয়নের অধীন নয়, এই পাহাড়শ্রেণী কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মনিরঝিল মৌজার অন্তর্গত। পূর্ব রাজারকুল বড়ুয়াপাড়ায় সদ্ধর্মোদয় বিহার নামে বর্তমান যে বিহারটি আছে সেটা একমাত্র বিহার নয়। পূর্ব রাজারকুল থেকে মনিরঝিল যাওয়ার বর্তমান যে পথ আছে সে পথের দক্ষিণের পাহাড়ের মাথায় বৃটিশ আমলে একটি বিহার ছিল। উক্ত বিহারের নাম ছিল বন বিহার বা ‘ত্ব ক্যং’ । ‘ত্ব ক্যং’ রাখাইন ভাষা।

আনুমানিক ১২৮০ মঘাব্দ বা ১৯১৯ সালে বিহারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন উ দেবেন্দ্র মহাস্থবির। তিনি স্থানীয়দের কাছে পন্ডিত ঠাকুর নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি শ্রীকুল পুরাতন বিহারের প্রথম বিহারাধ্যক্ষ ছিলেন। পরে তাঁর শিষ্য উ ইন্দ্রবংশ ভিক্ষুকে বিহারের দায়িত্ব দিয়ে তিনি ধ্যান সাধনা করার জন্য এই পাহাড়ে বন বিহার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্য উ ঞ্যেয় ভিক্ষু সুদীর্ঘ সময় ধরে উক্ত বিহারে ছিলেন। পরে পাকিস্তান সৃষ্টি হবার পর সাম্প্রদায়িক বিবাদের কারণে তিনি উক্ত বিহার ত্যাগ করে দক্ষিণ শ্রীকুলের বর্তমান চাংগ্রীমার ক্যং-এ চলে আসেন। পাহাড়ের মাথায় উক্ত বিহারের ধ্বংসাবশেষ আছে।

বন বিহারের অদূরে ছিল বর্তমান বিলুপ্তির হুমকির মুখে পড়া এ জাদি। দীর্ঘদিন অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকায় জাদির গায়ে প্রতিষ্ঠা সাল দেখা যাচ্ছে না। জাদিটি বন বিহারের সমসাময়িক বলে মত দেন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা।

এ প্রতিবেদক সরেজমিন গিয়ে দেখতে পায় জাদির বিভিন্ন স্থান থেকে ইট খসে পড়েছে। তার ওপর কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থানে খুদাই করেছে। সম্ভবত কোন অলংকারপাতি পাওয়ার লোভে একাজ করে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারনা।

জাদিতে যাওয়ার কোন পরিকল্পিত রাস্তা নেই। জাদির চারপাশে অনেক বসতি গড়ে উটেছে। বসতি স্থাপনকারীদের একাংশ রোহিঙ্গা বলে জানা যায়। জাদির উপরে গিয়ে দেখা যায় জাদির চারদিকে গাছ রোপণ করা হয়েছে। এমনকি জাদির গা ঘেষে এসব গাছ লাগানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মোস্তাক আহম্মদ নামের এক ব্যক্তি উক্ত গাছগুলো রোপণ করেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাক আহম্মদ আমাদের রামু কে জানালেন, ‘জাদিটি দীর্ঘ সময় ধরে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। ওখানে কেউ যাওয়া আসা করেন না। আমি বাগান করায় জাদিটা অনেকটা সুরক্ষা পেয়েছে। এখন যদি তারা এটা দাবি করেন তাহলে আমি যেকোন সময় এটা ছেড়ে দিতে রাজি’।

তবে তিনি এও জানান যে, তিনি ছাড়াও বর্তমানে জাদির পাহাড়টি আরো একাধিক জন দখল করে আছেন।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares