সর্বশেষ সংবাদঃ

নির্ভুল ও ভালোমানের বই তুলে দিতে চাই:এনসিটিবি চেয়ারম্যান

বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পৌঁছে দিলেও ওই বইয়ে বানানসহ তথ্যগত অনেক ভুল থেকে যায়। এছাড়া কাগজ এবং বাঁধাইয়ের মানও নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক এমনকি শিক্ষা বিশ্লেষকরাও।
এ নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি)বারবার সমালোচনাতেও পড়তে হয়েছে। তবে আগামী বছর এনসিটিবি শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ভুল ও ভালোমানের বই উপহার দিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা।

এনসিটিবির নিজস্ব কার্যালয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ সব কথা বলেন।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রতিবছরই দেখা যায় পাঠ্যবইয়ে বানান এবং তথ্যগত ভুল থেকে যায়। কিন্তু কেন এমন ভুল হয়?

নারায়ণ চন্দ্র সাহা: একটি বই ফাইনাল প্রিন্ট দেওয়ার আগে বারবার প্রুফ রিডার দিয়ে চেক করা হয়। তারপরও ভুল থেকে যায়। এর কারণ যখন কম্পিউটারে টাইপ করা হয়, তখন কিছু ভুল হয়। পরে সেটা সংশোধন করাও হয়। তারপরও আবার যখন প্রিন্টে যায়, তখন প্রিন্ট করার পরে অনেক সময় ফন্ট ভেঙে যায়। সেটা আবারও ঠিক করা হয়। কিন্তু অনেক সময় সব ভুল চোখেই পড়ে না। ফলে, ভুল কিছু না কিছু থেকেই যায়। কারণ, এটা এত বড় একটি কর্মযজ্ঞ যে, একদমই নির্ভুল করা খুবই কঠিন ব্যাপার। তারপরও এবার আমার অনেক সতর্ক রয়েছি। আগামী বছর আশা করি, শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ভুল বই তুলে দিতে পারবো।

বাংলা ট্রিবিউন: জানা গেছে, এ বছর অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু কেন?

নারায়ণ চন্দ্র সাহা: প্রতিবছর বই ছাপার জন্য এনসিটিবি টেন্ডার আহ্বান করে। সেই টেন্ডার যাচাই-বাছাই করে যারা কম টাকায় ভালোমানের বই দিতে পারবে, তাদেরকেই কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আমাদেরকে ভালোমানের বই দেয়নি। ফলে, আমরা তাদের জরিমানা করেছি। গত বছর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ পায় দেশের ২২টি প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের বই সরবরাহ ও সময়মতো সরবরাহ না করায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানকেই বিভিন্ন অংকে মোট ৫২ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৮ টাকা জরিমানা করা হয়।

বাংলা ট্রিবিউন: গুণগত মান ঠিক রেখে দেশিয় প্রতিষ্ঠানগুলো বই ছাপেনি। ফলে, আগামী বছর বিদেশি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ছাপার কাজ পাচ্ছে বলে জানা গেছে। এটা কতখানি সত্যি?

নারায়ণ চন্দ্র সাহা: কথাটা সঠিক নয়। আমার প্রতিবছর টেন্ডার দিয়ে থাকি। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সব দেশই বিট করতে পারে। নিয়ম মেনে আমাদের চাহিদা অনুসারে যারা বিট করে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে আমরা যাচাই-বাছাই করি। পরে বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে বিশ্বব্যাংকই চূড়ান্তভাবে ঠিক করে দেয় কারা কাজ পাবে, কারা পাবে না। গত বছরও অনেক বিদেশি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছিল। তবে দেশিয় প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল বেশি। ইতোমধ্যে এ বছর চূড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তারা এখনও কাজ করছে। তারা চূড়ান্ত তালিকা দিলেই বোঝা যাবে কারা কাজ পাচ্ছে, কারা পাচ্ছে না। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই ছাপানোর জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়, শুধু দেশিয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের জন্য। এখানে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিট করতে পারে না।

বাংলা ট্রিবিউন: আগামী বছর কত সংখ্যক বই ছাপানো হবে এবং তার প্রাক্কলিত ব্যয় কত হবে?

নারায়ণ চন্দ্র সাহা: আগামী বছর বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার, প্রাথমিকের জন্য ১০ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার ৩১৭টি, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি, এবং দাখিলের জন্য ২৩ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার, কারিগরি ট্রেডের জন্য ৯ লাখ ২০ হাজার, টিচার্স গাইড ৬০ লাখ, টিচার্স কারিক্যুলাম গাইড ৪৪ লাখ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ৯ হাজার ব্রেলবই ছাপানো হবে। এসব বই ছাপাতে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। তবে মুদ্রণে গেলে পরবর্তীতে কিছু বাড়তেও পারে, আবার কমতেও পারে।

বাংলা ট্রিবিউন: জানা যাচ্ছে, মাধ্যমিকের বই ছাপার জন্য অননুমোদিত নিম্নমানের কাগজ কিনছে এনসিটিবি?

নারায়ণ চন্দ্র সাহা: কাগজ ছাপানোর ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিতে হবে নীতিমালায় এমন কোনও শর্ত নেই। তবে এনসিটিবি সবসময় খুব ভালোমানের কাগজ যাচাই-বাছাই করে তবেই তা কেনে। তাছাড়া যারা এ বছর আমাদের কাগজ দিচ্ছে, তারাও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া কাগজ কেনাকাটার বিষয়টি এখন ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এ বছর এনসিটিবি কত টাকার কাগজ কিনছে?

নারায়ণ চন্দ্র সাহা: শুধুমাত্র মাধ্যমিকের বই ছাপানোর জন্য কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাগজ কেনা হয় এবং ছাপার কাজ যারা পায়, তাদের সরবরাহ করি। বাকি সব শ্রেণির বইয়ের কাগজ যারা ছাপার কাজ পায়, তারাই দেয়। তাদের সঙ্গে এভাবেই চুক্তি। সুতরাং মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি এবং দাখিলের জন্য ২৩ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ২০ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন কাগজ কিনতে খরচ হবে ১৬২ কোটি টাকা।

******************************************************************************************************************

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পাঠকদের স্বার্থে সাক্ষাৎকারটি বাংলাট্রিবিউন থেকে নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares