সর্বশেষ সংবাদঃ

মাতারবাড়িতে নতুন করে বেড়িবাঁধ ভাঙায় উপকূলে হাহাকার: আতঙ্কে দিন কাটছে উপকূলের ৮০ হাজার মানুষ

এ.এম হোবাইব সজীব,চকরিয়া:
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার উপকূলীয় মাতারবাড়ী ইউনিয়টি বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও দূর্যোগের তোপের মূখে থাকে এ এলাকাটি। প্রতিটি দূর্যোগে বিশেষ করে উপজেলার মাতারবাড়ী ও পাশ্ববর্তী ধলঘাট ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয়। স্থায়ীভাবে শক্ত ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কার না করার কারণে বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হয় উপকূলের এই দুই ইউনিয়ন।

এদিকে মাতারবাড়ীবাসীর বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজের কোন প্রকার অগ্রগতি হয়নি। ফলে অতীতে উপকূলের লাখো মানুষ অকালেই প্রাণ হারায় সর্বনাশা বঙ্গোপসাগারের বিশাল জলরাশিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার পরিবার। কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিকগ্রহনকৃত জমির রাঙ্গাখালী, টিয়াখাঁটি ও চুয়ান্ন ঘোনা ৩ টি বড় অংশ বেড়িবাঁধের ভাংগা দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকায় পানি বন্দি জীবন যাপন করতেছে শতাধিক পরিবার এখনোও মাতারবাড়ীতে।

আসমা খাতুন নামে এক মহিলা জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বসে ব্যাপক ক্ষতি হয় মাতারবাড়ী। এখনোও ঘুরে দাঁড়াতে পারি নাই অনেক অসহায় পরিবার। ঘুমানোর জন্য নেই কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা। কিন্তু এ নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ নেই তাঁদের। ত্রাণ চাই না সবার আগে স্থায়ি বেড়িবাঁধ চান তারা। মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ষাইটপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের আধাঁ কিলোমিটার এলাকা নতুন করে সাগরে বিলীন হতে চলেছে। গত এক মাসে অমাবস্যা আর পূর্ণিমার জোয়ারের এবং সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধের এই ক্ষতি হয়। এ নিয়ে এক বছরের মধ্যে মাতারবাড়ির তিন কিলোমিটার পাকা বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটারই ধসে গেছে।

পাকা বেড়িবাঁধের বড় অংশ ধসে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে মাতারবাড়ির ৮০ হাজার বাসিন্দার। বেড়িবাঁধের বাকি এক কিলোমিটার অংশও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। তেমনটা হলে পুরো ইউনিয়ন সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে বলে এলাকার মানুষ মনে করে।

ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকির মধ্যে আছে ২৫টি গ্রামের অন্তত ৮০ হাজার মানুষ। রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাতারবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিমে সাইরার ডেইল ও ষাইটপাড়ার বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ সাগরের তীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভাঙছে ঝাউগাছের লাগোয়া বেলাভূমি।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হোছাইন মাসুম ও সানিক জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঈদের ঘরমূখো মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়ে ছিলেন। কালারমারছড়া এলাকার দারাখালের ব্রীজ থেকে মানুষকে হেটেই মাতারবাড়ি আসতে হচ্ছে। সম্প্রতি রোয়ানু’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কার করা হলেও তা সম্প্রতি জোয়ারের পানিতে ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যেভাবে অবহেলা করছে এতে মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ িআমাদের রামু ডটকমকে বলেন, মাতারবাড়ী ইউনিয়নটি বঙ্গোপসাগরের মোহনায় হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে ষাইটপাড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা সাগরে গর্ভে তলিয়ে যাবে। মাতারবাড়ীকে রক্ষা করা সম্ভাব হবে না। কিন্তু ভাঙা বাঁধ সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করলে সম্প্রতি ভাঙা বাঁধ মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছেন বলে জানান। তবু ও আতঙ্কে কাটাচ্ছে এই এলাকার ৮০ হাজার মানুষ।

তিনি আরোও জানান, জোয়ারের পানির কারণে পবিত্র রমজান মাসেও মানুষের দূর্ভোগের শেষ ছিলনা। ঘূর্ণীঝড় কোমেন’র আঘাতের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই রোয়ানু’র আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে পুরো মাতারবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী ধলঘাট। সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এর প্রচেষ্টায় চালিয়াতলী-মাতারবাড়ী সংযোগ সড়কের যে আংশিক বেড়ীবাঁধ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল তা সম্প্রতি অমবশ্যার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় মানুষ বসবাস করতে পারে না। জোয়ার শুরু হলেই ঘর থেকে লোকজনকে সরে যেতে হয়। সর্বত্র লবণাক্ততা বিরাজ করায় কোন ফসলও চাষ করা যাচ্ছে না। অভিলম্বে বেড়িবাধ নির্মাণ করা না হলে সমগ্র মাতারবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল কালাম আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, নতুন করে বেড়িবাঁধ ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধের বাকি এক কিলোমিটার অংশ ভেঙে গেলে এই ইউনিয়ন রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বাঁধটি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান আমাদের রামু ডটকমকে বলেন, ইতিমধ্যে মাতারবাড়ি ও ধলঘাট ইউনিয়নের প্রায় সাত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভাঙা বাঁধ মেরামত করার দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares