সর্বশেষ সংবাদঃ

নিরাপত্তা নিয়ে সংখ্যালঘুদের উৎকণ্ঠা: জঙ্গি ও সংখ্যালঘু বিষয়ে কনভেনশনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম- ফখরুল

গত প্রায় দেড় বছরে জঙ্গিদের পরিকল্পিত হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকই সংখ্যালঘু। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি শরিফুজ্জামান

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জঙ্গি ও সংখ্যালঘু ইস্যুতে আমরা চুপ করে আছি, এমনটি নয়। আমরা সরকারকে প্রস্তাব দিলাম জঙ্গিবাদ বিষয়ে কনভেনশন আহ্বান করার, আলোচনায় বসার এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। অথচ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দলগুলো কড়া অবস্থান নিলে হয়তো তারা এতটা বেপরোয়া হতে পারত না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সংখ্যালঘুদের সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের অন্যান্য মানুষের মতো সংখ্যালঘুরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের জমিজমা দখল করা হচ্ছে, দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারদলীয় লোকজন জড়িত থাকছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কঠিন ও সংকটময় মুহূর্ত পার করছি, যখন এ দেশের বেশির ভাগ মানুষই চরম নির্যাতনের শিকার। বিএনপি অন্য ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষকে সংখ্যালঘু হিসেবে দেখতে চায় না। দলটি দেশের সকল সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের স্বাধীনতা ও সম-অধিকারে বিশ্বাসী।’

মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার। সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ মুহূর্তে চরম নির্যাতন সইছেন। তাঁদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি যে, অন্যের ওপর জুলুম-নির্যাতনের বিষয়টি ভাবার সুযোগও অনেকের নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এটা সত্য যে, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। একটি অগণতান্ত্রিক ও একদলীয় শাসনের চাপে দলের নেতা-কর্মীরা দিশেহারা। কথা বলা বা মত প্রকাশ করার মতো গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র নেই। এর ফলে দলটি মানুষের কাছে যাওয়া, সভা-সমাবেশ করা, প্রতিবাদ জানানোর সুযোগটুকুও পাচ্ছে না।’

মির্জা ফখরুলের মতে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। এ জন্য সরকার যাচ্ছেতাই করে যাচ্ছে। সরকারকে কিছু বললে তা শোনা দূরে থাক, উল্টো বিরোধী দলকে ঘায়েল ও হেয় করা হয়। কোনো হত্যা ও হামলার ঘটনা তদন্ত বা বিচারের আগেই সে জন্য সরকার বিএনপিকে দায়ী করে। এর ফলে তদন্ত সেই দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এগোয়। প্রকৃত আসামি অধরা থেকে যায়।

বিএনপির মহাসচিব মনে করেন, গণতন্ত্রই একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা সম্ভব। গণতন্ত্র না থাকায় জঙ্গিবাদের বিকাশ হচ্ছে। এর শিকার হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষ। তাঁর মতে, জঙ্গিদের নিয়ে সরকারের কাজকর্মে স্বচ্ছতার অভাব প্রকট। মাদারীপুরে সংখ্যালঘু শিক্ষককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় জনতা একজন জঙ্গিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিল। কিন্তু কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জঙ্গিকে গতকাল মেরে ফেলা হলো। এভাবে যাঁদেরই ধরা হচ্ছে, তাঁদের মেরে ফেলা হচ্ছে। এ থেকে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

মির্জা ফখরুল মনে করেন, সরকার জঙ্গিবাদ দমন করতে চায় না। এটা জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। কাউকে হয়তো দেখাতে চায়, জঙ্গি ঠেকাতে এই সরকারকেই প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

(বিঃ দ্রঃ আপনার ইমেইল গোপন রাখা হবে) Required fields are marked *

*

Shares