গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করা এবং বৌদ্ধ বিহার এবং ভাবনাকেন্দ্র নিয়ে বিষোদগার ও মিথ্যাচার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন

বিভিন্ন গণমাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম ব্দ্ধুকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করা এবং বৌদ্ধ বিহার এবং ভাবনাকেন্দ্র নিয়ে বিষোদগার ও মিথ্যাচার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে রবিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

মূল বক্তব্যে পরিষদের সভাপতি এবং রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, এসব প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যাচারমূলক, অবমাননাকর এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে পরিপূর্ণ। তিনি এসব প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট রেহনুমা আহমেদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) শামসুন্নাহার জোছনা, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলম এবং সাংবাদিক এ.কে.এম. আতিকুজ্জামান।

লিখিত বক্তব্যে প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্ম, গৌতম বুদ্ধ এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অবমাননাকর ও কুৎসাপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছে। এসব প্রতিবেদনের একটিতে গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’ পর্যন্ত আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং বৌদ্ধ বিহার ও ভাবনাকেন্দ্রে অস্ত্র প্রশিক্ষণের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তার ‘প্রধান টার্গেট’ হিসেবে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এভাবে তিনি সমস্ত বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, এসব কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মায়ানমারের তথাকথিত ‘৯৬৯’ আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা সব সময় কঠোর ভাষায় মায়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন এবং এই আন্দোলনের নিন্দা জানিয়ে আসছি।

তিনি মন্তব্য করেন, বৌদ্ধ ধর্ম ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিরুদ্ধে প্রচারিত এসব প্রতিবেদনে প্রতিবেদকগণ সাংবাদিকতার একেবারে প্রাথমিক নীতিমালাও অনুসরণ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। প্রতিবেদনগুলোতে কোনো সুস্পষ্ট সূত্র ব্যবহার করা হয়নি। তদুপরি, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ বিহারগুলোর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি- যদিও এ ধরনের স্পর্শকাতর প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বক্তব্য খুবই জরুরি ছিল।

unnamed (5)

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, সার্বিকভাবে ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচারপূর্ণ এসব প্রতিবেদন বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীকে ক্ষেপিয়ে তোলার হীন উদ্দেশ্যে প্রণীত। এসব প্রতিবেদন বাংলাদেশের বৌদ্ধদের এবং বৌদ্ধ উপাসনালয়ের উপর নতুন করে সাম্প্রদায়িক কোনো সহিংসতা ঘটানোর ক্ষেত্র তৈরি করার অপতৎপরতা বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু আলোচ্য প্রতিবেদনসমূহের প্রতিবেদক, প্রতিবেদনটি প্রকাশকারী গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন। এছাড়া মিথ্যা এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক এরকম প্রতিবেদন যেন আর প্রকাশিত না হতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা কামনা করেন তিনি।

মূল বক্তব্য পাঠের পর সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।