অযত্ন অবহেলায় রামুর শত বছরের জাদি

AIbEiAIAAABশিপ্ত বড়ুয়া:
কক্সবাজার; এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ করতে আসে হাজার হাজার মানুষ। কক্সবাজার জেলার একটি উপজেলার নাম রামু। ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের ভ্রমণ আগ্রহের জায়গা রামু।

এই রামুতে আছে নানান পুরাতন নিদর্শন। মন্দির, মসজিদ আরো দেখার মতো নানান বিচিত্র প্রাকৃতিক নিদর্শন। বর্তমানে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে আসা পর্যটকদের কাছে রামু একটা সুপরিচিত জায়গা । বিশেষ করে শত শত বছরের পুরোনো বৌদ্ধ বিহারগুলো । তাছাড়া আছে রামুর বৃহত্তর রাবার বাগান ।

রামু উপজেলার ছোট্ট একটি ইউনিয়ন হচ্ছে রাজারকুল। অনেকের মতে, এক সময় এক কানা রাজা ছিলেন এই রাজারকুল নামক জায়গাটিতে। সেই থেকে এই রাজার কুলের নামকরণ করা হয়। বলতে গেলে রাজারকুল একটি দ্বীপের মত।

রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজার কুল একটি গ্রাম । যেখানে রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালবাসার মেলবন্ধন।

পূর্ব রাজারকুল গ্রামের ঠিক পূর্ব দিকে এক কিলোমিটার হাটলে দেখা যায় কিছু পাহাড়-পর্বত। সেই পাহাড়গুলোও কানা রাজার পাহাড় নামে পরিচিত। শুনে অবাক হবেন , দরগাহ পাহাড়ের ঠিক ডানপাশের পাহাড়ে আছে শত কিংবা হাজার বছর পুরোনো বৌদ্ধ ধর্মের এক নিদর্শন । যা জাদি নামে পরিচিত। জাদিটি দেখে ধারণা করা যায় যে জাদিটি শত শত বছর আগে নির্মিত।

বর্তমানে জাদিটি প্রায় ধ্বংসের পথে বলা যায়। ছোট পাহাড়টির উপরে জাদিটি এখন জোপ-ঝাড়, লতা পাতায় ছেয়ে আছে। অনেকবার পূর্ব রাজার কুল গ্রামের যুবক ছেলে মেয়েরা জাদিটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও নানান বাধায় তা আর করা হয়নি।

বর্তমানে জাদিটি কিছু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বেদখলে প্রায় ধ্বংসের পথে । বেশ কয়েকবার রামু এবং কক্সবাজারের স্থানীয় কিছু পত্রিকায় জাদিটির কথা লিখা হলেও কক্সবাজার জেলার প্রশাসক বা রামুর বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা এই সর্ম্পকে কোন উদ্যোগ হাতে নেননি ।

রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টির ফলেই কেবল জাদিটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। জাদিটি পুনরুদ্ধার
হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যেমন উপাসনাসহ ধ্যান সাধনার জায়গা হবে তেমনি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদেরও মনের খোরাকের খানিকটুকু হলেও যোগাবে এই জাদিটির আশপাশের পাহাড় নদীসহ বিভিন্ন মনোরম দৃশ্যাবলি।

পূর্ব রাজারকুল বড়ুয়া পাড়া গ্রামবাসীর এখন শুধু অপেক্ষার পালা কখন উচ্চ মহল থেকে জাদিটি পুনরোদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা দেখার। রামুবাসীসহ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের প্রতি আমাদের অনুরোধ অচিরেই এই শত শত বছর পুরানো জাদিটি পুনরোদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার। আজ এটুকুই।