চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচন – ১৮ কেন্দ্রের সব কটিই ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া।
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের নয়টি ওয়ার্ডের ১৮ টি কেন্দ্রের সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ কারণে ২০ মার্চ অনুষ্টেয় নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাব দায়িত্ব পালন করবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি আমাদের রামুকে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এক প্রার্থীর সমর্থকেরা অন্য প্রার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হামলা, মারামারির মতো কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটারদের মনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁরা সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চরম শঙ্কিত। সেই শঙ্কা আরেকটু বাড়িয়ে দেয় যখন ক্ষমতাসীনদলের নেতারা সুষ্ঠু ভোট ও কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানান।

বিমানবন্দর পাড়ার বাসিন্দা সাহাবউদ্দিন (৩৫) বলেন, ‘প্রকাশ্যে যেভাবে হামলা শুরু হয়েছে, আমরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবো কি না যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। পর্যাপ্ত র‌্যাব-বিজিবি না থাকলে ভোটারেরা কেন্দ্রে যাবে না।’

গত ১২ মার্চ সকালে করাইয়াঘোনা এলাকায় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দারের স্ত্রী রিফাত সাবরিনা লাঞ্চিত হন।

ওই দিন রাতে পাঁচ-ছয় জন বিএনপি নেতার ঘরে পুলিশ হানা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

১৪ মার্চ সন্ধ্যায় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর নির্বাচনী পথসভায় হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এর আগে ১১ মার্চ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিন ব্যক্তি আহত হন।

২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম গত ৭ মার্চ নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর ওয়ার্ডের দুই কেন্দ্রেই নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। রেজাউল করিম বলেন, চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হালকাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দুইটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। একজন প্রার্থী এখন থেকেই ভোটারদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। প্রতিরাতে ওই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন।

২ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাউল হকও কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটারেরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমরা চাই সুষ্ঠু ভোট হোক। ইতিমধ্যে এক প্রার্থীর কর্মকান্ড সুষ্ঠু ভোট নিয়ে ভোটারদের মাঝে শঙ্কা তৈরি করেছে।’

জানতে চাইলে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এ সব কেন্দ্রে সার্বক্ষনিক র‌্যাব ও বিজিবি রাখতে হবে। এখনই আওয়ামীলীগের প্রার্থী হামলা ও প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলেছেন। আল্লাহ-ই জানে নির্বাচনের দিন কি ঘটে?’

তবে আওয়ামীলীগের মেয়রপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলবো না। তবে প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। যাতে ভোটারদের মনে কোনো শঙ্কা না থাকে। তাঁরা যাতে স্বত:স্ফুর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে যায়।’

তবে প্রার্থীরা যাই-ই বলুক সুষ্ঠু ভোট নিয়ে ভোটারদের মনেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁরা সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চরম শঙ্কিত। বিমানবন্দর পাড়ার বাসিন্দা সাহাবউদ্দিন (৩৫) বলেন, ‘প্রকাশ্যে যেভাবে হামলা শুরু হয়েছে, আমরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবো কি না যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। পর্যাপ্ত র‌্যাব-বিজিবি না থাকলে ভোটারেরা কেন্দ্রে যাবে না।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন আমাদের রামুকে বলেন, ‘নির্বাচনে এক প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের চারটি টিম ও ১৮ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত সার্বক্ষনিক চারজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

এছাড়া ৩ মার্চ থেকে চকরিয়ার সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. রফিকুল হক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও ২১ মার্চ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।’

জানতে চাইলে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল-চকরিয়া) মো. মাসুদ আলম আমাদের রামুকে বলেন, ১৮ টি কেন্দ্রকেই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ সদরদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এটি ভোটারদের নেতিবাচক হিসেবে নেওয়ার দরকার নেই।

একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচন করতে সব প্রস্তুতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে নিয়েছে। ভোটারেরা উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে ভোট দিয়ে তাঁদের যোগ্য ও কাঙ্খিত নেতা নির্বাচন করতে পারবেন।’