কুতুবদিয়ায় নির্বাচনে প্রচারণা আছে, আমেজ নেই

এম.এ মান্নান,কুতুবদিয়া।
আগামী ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মাঝে প্রচারণা কার্যক্রম থাকলেও আমেজ নেই খুব একটা। অদৃশ্য আশংকা-আতংকে দিন কাটছে ভোটার-প্রার্থীদের।

ইউপি নির্বাচনে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে থাকে। তবে ব্যতিক্রম শুধু এবারই দেখছেন সাধারণ ভোটাররা।

দলীয় প্রতীকে চেয়রম্যান প্রার্থী সরকারি দল আ‘লীগের ৬,বিএনপি‘র ৬ ও জাতীয় পার্টির ২ জন সহ ৬ ইউনিয়নে ১২ জন।

বড় দু‘দলের একাধিক বিদ্রোহী সহ ১৭ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

নির্বাচনের শেষ মূহুর্তেও জমেনি আমেজ। দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রিক্সা চালক তজু মিয়াজি (৭৫) বলেন , ভোট দিতে পারবো কিনা জানিনা। পরিস্থিতি ভাল লাগছেনা।

ভোটে গোলমাল হতে পারে কিনা-এমন কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি আরো বলেন,গুলি খেয়েও ভোট দিতে চাই। সুষ্ঠু ভোট চাই।

উত্তর ধুরুং কালারমার পাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নজির আহমদ বলেন, ভোটের আগেই আশংকা দেখছি। আদৌ ভোট দিতে পারব কিনা জানিনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, উপজেলা জুড়ে গুজব রটেছে, সরকারি দল ভোটে প্রভাব খাটাতে পারে। এটি দু:চিন্তার বিষয় বৈকি। প্রার্থীদের হাব-ভাব দেখে ভাল লাগছেনা। যে কোন কিছুর বিমিময়ে চেয়ারম্যান চাই-এমন পরিস্থিতি চলছে।ভোট কেড়ে নেয়া, কেন্দ্র দখল সহ প্রশাসনিক “বিশেষ সুবিধা” পেতে পারেন নৌকা প্রতীক ধারীরা। এমন আশংকার কথা জানান সাধারণ ভোটাররা। ভোট সুষ্ঠ হবে-কিনা এ আশংকাও বিরাজ করছে তাদের মাঝে।

উত্তর ধুরুং , কৈয়ারবিল,দক্ষিণ ধুরুং, বড়ঘোপ ইউনিয়নে ইতিমধ্যে আ‘লীগ-বিএনপি,স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মনোনয়ন দাবিদার বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঝে একাধিক বার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর বের হয়েছে।

বড়ঘোপে বড় দু‘জাদরেল প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে পেশী শক্তির মহড়া চলছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যেতেও ভয় পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ৪ ইউনিয়নে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশংকা করছেন ভোটার সহ সচেতন নাগরিক। এমনিতেই কৈয়ারবিল ছাড়া পরিষদে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান নেই দির্ঘদিন যাবত। যে কারণে অধিকাংশ ইউনিয়েেন সরকারি দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী তুলনামূলক দূর্বল অবস্থানে ছিল। এটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় তারা মরিয়া এখন।

অপর দিকে প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপি‘র অবস্থান ভাল বলে জানান তৃণমূল ভোটাররা।

বড়ঘোপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ শাকের উল্লাহ (স্বতন্ত্র) উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি ও কৈয়ারবিলে চেয়ারম্যান প্রার্থী জালাল আহমদ, বিএনপি‘র দক্ষিণ ধুরুং চেয়রম্যান প্রার্থী ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী, বড়ঘোপের বিএনপি‘র প্রার্থী মোবারক হোছাইন, উত্তর ধুরুং স্বতন্ত্র প্রার্থী (উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী) শাহরিয়ার চৌধরী জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ন সম্পাদক (স্বতন্ত্র) মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল তারা সবাই বলেন, ভোট নিয়ে আতংকে আছি। ভোটাররা ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।

তবে তারা সুষ্ঠু ভোট আশা করেন প্রশাসনের কাছে।

উত্তর ধুরুং আ‘লীগের তৃণমূল নেতা লিয়াকত আলী বলেন, ভোট সুষ্ঠু হবে। আতংকের কিছু নেই। তবে সরকারি দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনায় ভোটারদের আস্থা কমে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

একই ভাবে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরিফ মোশাররফ বলেন, ভোট সুষ্ঠু হবে। বিভিন্ন স্থানে প্রতীক ছেঁড়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, নৌকা প্রতীকের উপর এতো আক্রোশ কেন ?

রেশমীখালী ইউনিয়নে আ‘লীগ প্রার্থী সাবেক উপজেলা সভাপতি ছৈয়দ আহমদ কুতুবী বলেন, ভোট সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা আতংক-তিনি তা মানতে নারাজ। জয়ের ব্যাপারে তিনি ৬০ ভাগ এগিয়ে বলে জানান।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুচছাফা বলেন, সব ইউনিয়নেই ভোট সুষ্ঠু হবে। দ্বীপের উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দেবে।

প্রশাসন সব সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখছে এবং ভোটের দিনও এ নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।