ঘুমধুমে সংখ্যালঘুর বসতভিটা দখলে নিতে মরিয়া পুলিশ

শহিদুল ইসলামঃ
উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি মালিকানাধীন জোত জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার পাঁয়তারায় নেমেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বাঁধা দিতে গিয়ে গৃহবধূ সহ বয়োবৃদ্ধ এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছে।

১৬ মার্চ বুধবার দুপুর ১২টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, পুলিশ ফাঁড়ির নতুন ভবন নিমার্ণের পর থেকে ঘুমধুম ফাঁড়ি পুলিশের আবাসন সংকট দূর হয়।

তাছাড়া পাহাড়ের চূঁড়ায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িটি দৃষ্টিনন্দন স্থানে পরিণত হয়। স্বল্প সংখ্যক পুলিশের জন্য এত বিশাল ভবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা না দিলেও সরকারি অর্থে পুলিশের জন্য আধুনিক মানের এ ভবন নিমার্ণ করা হয় বলে পুলিশের একাধিক ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বান্দরবান জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) মোহাম্মদ মাহামুদ ১৬ মার্চ বুধবার দুপুরে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে স্থানীয় অসহায় ও নিরীহ লোকজনের বসতভিটা জোর পূর্বক দখল করে নেওয়ার জন্য মারধরের পাশাপাশি নানা ভাবে হুমকি দেন।

এসময় বসতভিটা রক্ষার আকুতি জানাতে গিয়ে প্রবাসী নীতুশ বড়ুয়ার স্ত্রী মিনা বড়ুয়া পুলিশের সাথে বাদ- প্রতিবাদ করতে চাইলে পুলিশ তাকেও উপর্যুপুরি লাঠির আঘাত করে।

এছাড়া মৃত যাত্রা মোহন বড়ুয়ার ছেলে সমুল বড়ুয়ার বসতভিটা দখলে নেওয়ার জন্য তাকেও বেদম প্রহার করে পুলিশ।

বর্তমানে আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী আমাদের রামুকে জানান, পুলিশ যেভাবে অপ্রত্যাশিত ভাবে নিরীহ মানুষের বসতভিটা দখল করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। উল্টো পুলিশের লাঠির আঘাতে দুইজন নারী-পুরুষ আহত হয়। এঘটনার জন্য দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবীতে এলাকার বাসিন্দারা ফুসে উঠার পাশাপাশি বৃহত্তর ঘুমধুমে মানববন্ধন কর্মসূচী ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমাদের রামুকে বলেন, বিষয়টি বান্দরবানের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে মোবাইল ফোনে অবগত করা হয়েছে।

অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা মাহামুদের শাস্তির দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের কোন নিরীহ লোকজনের বসতভিটা, জায়গা জমি কেড়ে নেওয়ার পায়তারা কিংবা চেষ্টা করা হলে ঘুমধুমের জনসাধারণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে। পুলিশ বলে ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে অন্যের জমি বে- আইনী ভাবে দখল করতে পারবে না।

অভিযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) মাহামুদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।