আতিউরের পদত্যাগ সাহসের দৃষ্টান্ত: প্রধানমন্ত্রী

অর্থ লোপাট ও তার তথ্য গোপন নিয়ে তোপের মুখে থাকা আতিউর মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর আতিউর রহমান সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র পেশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আতিউর রহমানের এই পদত্যাগ একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা নৈতিক মনোবল ও সৎ সাহসের বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত প্রায় সাত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন আতিউর রহমান। তার মেয়াদকালে দেশে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি রিজার্ভ কয়েক গুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আতিউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

“বিশেষ করে তার (আতিউর) সময়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি ও ব্যাংকিং সেবাখাত আরও গতিশীল হয়েছে।”

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা জানাজানির পর নানা মহলের সমালোচনায় পড়েন আতিউর রহমান।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে হ্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক শুরুতেই বিষয়টি টের পেলেও কর্মকর্তারা তা গোপন করে যাওয়ায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তা পত্রিকা পড়ে জানতে হয়।

এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গভর্নরের পদ ছাড়লেন আতিউর রহমান।

বিডিনিউজ