রাতে কাঠ পাচারের মহোৎসব: সহায়তা করছে বনবিট কর্মকর্তা!

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার
আমাদের রামু ডটকম :
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দোছড়ি ইউনিয়ন থেকে কাঠ পাচারের মহোৎসব শুরু হয়েছে।

এসব এলাকার সংরক্ষিত এবং অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষ নিধন করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুদ করা হচ্ছে তামাকচুল্লিতে।

একে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

গেল একমাস ধরে বাইশারী, দোছড়ি, রামুর গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কাঠ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কাঠ চোরাকারবারীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের নেতৃত্বেই এতদঅঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার তামাকচুল্লিতে বনাঞ্চলের অবৈধ কাঠ মজুদের মহোৎসব চলছে।

তবুও স্থানীয় প্রশাসন কেন নিরব রয়েছে এ নিয়ে দিন দিন প্রশ্ন জাগছে সচেতন মহলের মনে।

তাই তারা অবৈধ কাঠ পাচাররোধে জরুরী ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বর্ডার গার্ড এবং রামু ৫০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় ২০/৩০টি গাড়ী যোগে (জিপ ও ট্রাফি গাড়ী) প্রতিরাতেই গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তামাকচুল্লিগুলোতে অবৈধ কাঠ নিয়ে যাওয়া হয়। কাঠ বোঝাই গাড়ীগুলো গভীর রাতে বাড়ির আঙিনায় স্থাপিত তামাকচুল্লির নিকটে যাওয়ায় বিকট শব্দে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে।

পাশাপাশি তামাকচুল্লিতে কাঠ পুড়ানোর ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এসব বিষয়ে স্থানীয় গিলাতলী বনবিট কর্মকর্তার ভূমিকা রহস্যজনক বলছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, কাঠ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাত রয়েছে বিট কর্মকর্তার। তাই তিনি কোন ধরণের অভিযান পরিচালনা করছেন না।

জানতে চাইলে গিলাতলী বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম দাবি করে আমাদের রামুকে জানান, কাঠ পাচারের বিষয়ে তার কাছে কোন ধরণের তথ্য নেই। আঁতাতের বিষয়টিও মিথ্যা।

তবে এসব বিষয় নিয়ে রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করেন বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদ।

একাধিক সূত্র মতে, বাইশারীর চাইল্যাতলি, নারিজবুনিয়া, আলীক্ষ্যং, দোছড়ির তুলাতলি, খুরিক্ষম, বাহিরমাঠ, গর্জনিয়ার থিমছড়িসহ দুর্গম বনাঞ্চল থেকে বনদস্যুরা বিভিন্ন এলাকায় কাঠ পাচার অব্যাহত রেখেছে। বনবিভাগের কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করেই তারা এ অবৈধ কর্মকান্ড বীর দর্পে পরিচালনা করছে।

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী আমাদের রামুকে বলেন, প্রশাসনের শিথীল নজরদারীর কারণে এলাকার বনাঞ্চল ধ্বংস করে নীরবে তামাকচুল্লিতে জ্বালানোর প্রস্তুতি চলছে মূল্যবান বনজ সম্পদ।

তামাক প্রক্রিয়াজাত কাজে কাঠের বিকল্প জ্বালানীর ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে।