“কেমন রামু সমিতি দেখতে চাই” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

আমাদের রামু প্রতিবেদক:
৪ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্থানীয় রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হল “কেমন রামু সমিতি দেখতে চাই” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভা। এর আগে নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ শপথ নেওয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রামু সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এ আলোচনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন শর্মা।

সূচনা বক্তব্যে তিনি একুশ সদস্যের নির্বাহী কমিটিকে একত্রিশ সদস্যে রূপান্তরিত করা, পনের সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ও পাঁচ সদস্যের ট্রাষ্টি বোর্ড অনুমোদন করার প্রস্তাব করেন।

নব নির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা ছাড়াও মূল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল মনসুর চৌধুরী, জাতীয় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা, সাবেক সভাপতি ফণীভূষণ শর্মা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল মোমেন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, সাবেক উচ্চপদস্থ ব্যাং কর্মকর্তা জান্নাতুল কাউনাইন, সহ সভাপতি সাইমুল আলম চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন ফরহাদ, সাংগাঠনিক সম্পাদক সবুজ বড়ুয়া, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক বিজন শর্মা, নির্বাহী সদস্য জিয়াউর রহমান সেলিম, লিটন কুমার শর্মা, আব্দুল হাকিম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত, নারী বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া বেগম প্রমুখ।

রামু সমিতি কে ঢাকাস্থ রামুবাসীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলার জন্য রামু সমিতির উন্নয়ন কে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ জন্য রামুতে সমিতির নামে স্থায়ী জমি বন্দোবস্থ করার প্রক্রিয়া শুরু করার মতামত আসে। এ জন্য রামুর দক্ষিণাঞ্চলে খাস জমি সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিবন্ধন করা যেতে পারে বলে মত দেন রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া।

রামুর পর্যটন খাতকে আরো আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করার জন্য বক্তারা বিভিন্ন প্রস্তাব রাখেন। এর মধ্যে রামুর ইতিহাস ভিত্তিক পর্যটন, ইক্যু ট্যুরিজম, প্রাকৃতিক পরিবেশ কে তুলে ধরার জন্য ব্রান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ডিজিটাল ডকুমেন্টারি বানানো সহ বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মতামত তুলে ধরেন অনেকে।

17160303_1886005328314638_1011551722_n

রামু সমিতির আয়খাত বাড়ানোর উপর ও দৃষ্টিপাত করেন কয়েকজন আলোচক। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন, ডোনেশন সহ বিভিন্ন আয় খাত নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের পৃষ্টপোষক আজিজুল হক চৌধুরীর আশ্বাস মোতাবেক যাকাত ফান্ড ও কল্যাণ ফান্ড করার প্রস্তাব আসে। শিক্ষামূলক বৃত্তি ও ভর্তি সহযোগিতার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করবে রামু সমিতি – শীঘ্রই।

ঢাকাস্থ রামুবাসিদের যে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা, আইনগত সেবা ও পরামর্শ দিবেন বলে আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট আলোচকরা। কর্মসংস্থান নিয়ে ও সচেতনতা মূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। আলোচকরা স্বাস্থ্য ও আইন বিষয়ক আলাদা উপ-কমিটি করার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন।

মাদকের আগ্রাসন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে রামুতে। মাদক নিরুপায়ের সচেতনতা মূলক কার্যক্রম নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান এডভোকেট আবুল মনসুর চৌধুরী। তিনি রামু সমিতির উন্নয়নের জন্য সবাইকে একীভূতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।

রামুর শিক্ষার জন্য কিংবদন্তীতুল্য খিজারীর মৃত্যু দিবস ১৬ আগস্ট ও ক্যাপ্টেন কক্সের মৃত্যুদিবস ২রা জুন পালন করার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন জনাব নুর মোহাম্মদ।

17161123_1886005401647964_647551709_n

উল্লেখ্য ক্যাপ্টেন কক্স তাঁর কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন রামুতে। তাঁর ব্যবহৃত বাংলোকে সংরক্ষণের জন্য তিনি মাননীয় সাংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ঢাকাস্থ রামুবাসীদের কাছে থাকার জন্য ক্ষুদে বার্তা সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান। বিদায়ী সভাপতি ফণীভূষণ শর্মা রামুবাসীদের প্রতি সবসময় ভালবাসার হাত প্রসারিত করার আহবান জানান রামু সমিতিকে।

আলোচনা সভা সমন্বয়ে সহায়তা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ও সঞ্ছালনায় সহায়তা করেন মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম। পরে উপস্থিত সকলে নৈশভোজে মিলিত হন।