উখিয়া ট্রাফিক পুলিশের দম্ভোক্তিঃ’পারলে বেশি লিখেন’

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের চলাচলরত বিভিন্ন প্রকার ৩ সহস্রাধিক যানবাহন থেকে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদা আদায় এখনো থামেনি।

৮ মার্চ মঙ্গলবার কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত কয়েকটি দৈনিক উখিয়া ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বস্তুনিষ্ট ও তথ্যবহুল সংবাদ ফলাও করে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে টিএসআই সাঈদ মিয়া ওপেন সিক্রেট ঘুষ আদায়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে থানা পুলিশের অভ্যন্তরে ট্রাফিক পুলিশ সাঈদ মিয়ার বেপরোয়া চাঁদাবাজিও জোর পূর্বক গাড়ীর মালিক শ্রমিকদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের ঘটনায় মৃদু ও নিরব তোলপাড় চলছে।

অনেকের কাছ থেকে নানা কান কথা শুনা যাচ্ছে টিএসআই সাঈদ মিয়ার চাঁদা আদায়ের ঘটনা নিয়ে। পুলিশের ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবি মতে, গত ৫/৬ মাস আগে টিএসআই সাঈদ সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও প্রধান প্রধান স্টেশনগুলো থেকে যানজট কমাতে উখিয়া থানায় যোগদান করেন।

যোগদানের কিছুদিন স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও গত ৪ মাস ধরে বেপরোয়া হয়ে এক প্রকার প্রকাশ্যেই এক শ্রেণির টোকেন বা চিরকুট দিয়ে গাড়ীর মালিক শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তি অনুযায়ী হাজার হাজার টাকা আদায় করে এর পরিমাণ দাড়াঁয় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।

এ হিসাবের পরিসংখ্যা অনুযায়ী বাৎসরিক চাঁদা ও ঘুষ আদায়ের পরিমাণ দাড়ায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এত বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা পুলিশের প্রতিটি ঘাটে ঘাটেই এ চাঁদার ভাগবাটোয়ারার টাকা পৌঁছে যায়।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি বিভিন্ন প্রকার শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের ব্যানারে রয়েছে প্রায় ৩ সহস্রাধিক ছোটখাট যানবাহন।

প্রতি গাড়ী চালকদের এক টুকরা সাদা কাগজের সীল মোহর দেওয়া টোকেনের মাধ্যমে আদায় করা হয়ে থাকে এ চাঁদা। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ীর খাত থেকে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোন কোষাগারে জমা না করে নিজেরা ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে তা আত্নসাৎ করে আসছে।

ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই সাঈদ গাড়ী থেকে আদায়কৃত চাঁদার টাকা প্রতি সপ্তাহে ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে রেখে আসেন। এছাড়াও এ প্রসঙ্গে কেউ জানার জন্য সাঈদ মিয়ার সাথে আলাপ করতে চাইলে তিনি প্রায় সময় অসুস্থ থাকেন। এসব অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে সাঈদ মিয়া লক্ষ লক্ষ টাকা ছদ্মবেশে হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অন্য একটি সূত্র মতে, পুলিশের দুর্নীতি তদন্ত ও অনুসন্ধান কিংবা নজরদারির জন্য কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। বিশেষ করে দেশের কয়েকটি থানার উপর উর্ধ্বতন পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

এর মধ্যে সীমান্ত উপজেলা ইয়াবা ও মানবপাচারের টার্নিং পয়েন্ট খ্যাত উখিয়া ও পুলিশের নজরদারির তালিকায় রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ট্রাফিক পুলিশের ওপেনসিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন নামে দেশে একটি সংস্থা রয়েছে। এ সংস্থার সংশ্লিষ্টরা পুলিশের অবৈধ আয়ের উৎস অনুসন্ধানের উদ্যোগ কিংবা তা প্রতিরোধে পরিকল্পনা হাতে না নেওয়ায় দেশে জ্যামিতিক হারে লাখপতি ও কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে।

এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারি সংস্থা হিসাবে ট্রাফিক পুলিশ অন্যতম বলে অনেকেই ধারণা করছেন। উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ আদায় বন্ধ, সড়কের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খল, যানজট স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এসব দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদের অন্যত্রে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণের মাঝে পুলিশ সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট তৈরি হবে বৈকি।

মরিচ্যা বাজারের টমটম চালক মোহাম্মদ সোহেল জানান, ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ আদায়ের কারণে সড়কে গাড়ী বের করা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোটবাজারের টমটম চালক আমান উল্লাহ আমান বলেন, সমিতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গাড়ী থেকে প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা পুলিশকে দিতে হয়। পুলিশের জন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এসব উত্তোলন করে থাকে। আবার এসব শ্রমিক সংগঠন গাড়ী থেকে আদায়কৃত অর্থ কোথায় দেয়, কি করে বা কোথায় যায় তার কোন হদিস নেই।

উখিয়ার দরগাহ বিলের আবু তাহের জানান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার সদিচ্ছা থাকলে শ্রমিক সংগঠনের দুর্নীতি তদন্তে নামতে পারেন। কিন্তু আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ পুলিশের পাশাপাশি সমবায় অফিসারও পেয়ে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে টিএসআই সাঈদ মিয়া জানান, ভাই, গাড়ী আটকের সংবাদটা ভাল করে লিখেন। আর আমাদের বিরুদ্ধে লিখে আপনাদের কোন ফায়দা হবে না। আমি পত্রিকান্তরে সংবাদের প্রতিবাদ দিবো আরকি।