খুনিয়াপালংয়ের নূরানী মাদ্রাসা কোরআনের আলো ছড়াচ্ছে

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া প্রতিনিধি।
উখিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা রামুর উত্তর খুনিয়াপালং এলাকায় স্কুল পাহাড় সংলগ্ন পূর্ব নয়াপাড়া গ্রামে দারুল হিক্মাহ নূরানী মাদ্রাসা নামে একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায় ধর্মের আলো ছড়াতে নিরলস ভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।

জরাজীর্ণ ও খোলা আকাশের নীচে মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা এক কষ্টের পরেও কোরআনের আলোতে জীবনকে আলোকিত করে চলছে। উক্ত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রাতদিন কার্যক্রম শেষে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে মানুষের দেওয়া ২/১ টাকা দানের পয়সায় পরিচালিত হয় মাদ্রাসাটি।

তবে সহযোগিতা ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে প্রতিষ্ঠার এক বছরেও দারুল হিক্মাহ নামের নূরানী মাদ্রাসাটির ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি।

মাদ্রাসার পরিচালক ও সভাপতি শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, অবহেলিত এলাকার খুনিয়াপালংয়ের পূর্ব নয়াপাড়া গ্রামটির অভ্যন্তরে কোন শিক্ষাদীক্ষা বা ধর্মীয় কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এ এলাকার শত শত পরিবারের ছোট ছোট শিশু কিশোরের জীবনকে কোরআনের আলোতে আলোময় করতে ব্যক্তিগত আর্থিক ও এলাকাবাসীর সহায়তায় দারুল হিক্মাহ মাদ্রাসাটির গত বছরের মার্চ মাসে যাত্রা শুরু হয়।

এলাকার সামান্য একজন দরিদ্র ব্যক্তি ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করতে মাদ্রাসার নামে ১০ শতক পাহাড়ি পি.এফ ভূমিতে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নুরুল হক, শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল হাশেম তাদের শিশুদেরকে কোরআনের শিক্ষা দিয়ে আসছেন।

বাড়ী বাড়ী গিয়ে সামান্য দান খয়রাতির টাকায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসলেও এখনো খোলা আকাশের নীচে শিশুরা চরম দূভোর্গ সহ্য করে প্রচন্ড রোদ ও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোরআনের শিক্ষায় জীবনকে আলোকিতময় করে তুলছে।

স্থানীয়রা জানান, যদি মাদ্রাসাটি সরকারি ভাবে কিংবা বেসরকারি বা দানবীর ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগীতায় এ মাদ্রাসাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে রামু আসনের সরকার দলীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বান্ধব সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল যদি একটু সু-দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণ এবং জীর্ণশীর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য আন্তরিকতার সহিত সরকারি টিআর, কাবিখা, কাবিটার সামান্য বরাদ্ধকৃত ৪/৫ টন চাল দান করা হয় শত শত শিশুরা নিরাপদে কোরআনের শিক্ষা নিতে পারবেন।

সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠিত দারুল হিক্মাহ নূরানী মাদ্রাসাটি দূর্দশা কোনদিন দূর হওয়ার মত নয়।

২০১৫ সালের মার্চ মাসের দারুল হিক্মাহ নূরানী মাদ্রাসাটিতে এলাকার লোকজন ছেলে মেয়েদের কোরআনের আলোকে ধর্মীয় জীবন গড়তে ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদান দিয়ে আসছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, কোষাধ্যক্ষ খোরশেদ আলম এবং উক্ত মাদ্রাসার দাতা ও উপদেষ্টা ফরিদুল আলম জানান, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে দারুল হিক্মাহ নূরানী মাদ্রাসাটি এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠেনি। যেটুকু চলছে নিজেদের প্রচেষ্টা ও যৎ সামান্য অর্থ দিয়ে। জানিনা মাদ্রাসাটির এ দৈন্যদশা দূর করতে কে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে?