ইনানীর সৈকতে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলনে বন্ধুতার জয়গান : কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার, রামু।
সতত সুন্দরে অন্তর ছুঁই, প্রীতির বাঁধনে বন্ধু তুই। ৩০ বছর পরে বন্ধু সম্মিলনে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন।

কথামালা, হাস্য-কৌতুক, আড্ডায় মিলন ও শিশুদের উচ্ছলতায় দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

৪ মার্চ শুক্রবার ইনানী পাথুরে সমুদ্র সৈকতের ফরেষ্ট রেষ্ট হাউজে আনন্দ-উচ্ছল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন।

সকাল ৮টা বাজতেই বন্ধুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। কতদিন পর দেখা! স্মৃতিকথা, জানাজানি-মাখামাখি, ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে উঠেন সবাই।

৩০ বছর পরে কৈশোরের বন্ধুদের পেয়ে স্ত্রী, সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দেয়া, সেলফিতে মেতে উঠেন সবাই। এরই মাঝে ইনানী সমুদ্র সৈকতে উদ্যেশে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি। একে একে সবাই গাড়িতে উঠে রওয়ানা হন।

কক্সবাজার শহর হয়ে মেরিন ড্রাইভ রোড ইনানীর পথে। বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ইনানী ফরেষ্ট রেষ্ট হাউজে উপস্থিত হন স্বপরিবারে খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুরা।

বন্ধু সম্মিলনের সফল আয়োজন করতে আগেভাগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বন্ধু সম্মিলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন, খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু নুরুল হক ও শফিউল আমিন। স্ত্রী, সন্তান সহ খিজারীয়ান ৮৬ বন্ধুরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে, গোলাপ-রজনিগন্ধা দিয়ে বন্ধুপরিবারকে স্বাগত জানায় খিজারীয়ান ৮৬ বন্ধু নুরুল হক। নাস্তা পরিবেশন করেন, বন্ধু আলী হোসেন, রূপন শর্মা, মীর কাশেম। কয়েক ঘন্টা আড্ডা ছবি তোলায় ব্যস্ততা। দুপুর গড়ালে খাবারের আয়োজন।

শুরু হয় স্মৃতিকথনে আনন্দ আয়োজন অনুষ্ঠান। বন্ধুতার কথা নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু কক্সবাজার-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ সাইমুম সরওয়ার কমল, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ব বিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুল আবছার খান, লোহাগাড়া আলহাজ¦ মোস্তাফিজুর রহমান বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আকতার কামাল, রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন, রামু প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও খিজারীয়ান ৮৬’র প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক খালেদ শহীদ, উখিয়ারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন বড়ুয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী নুরুল হক, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, জোয়ারিয়ানালা এইচ এম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক সিকদার, রাজনীতিক ও সমাজকর্মী জহির উদ্দিন কাজল, ক্রীড়া সংগঠক প্রবাল বড়ুয়া নিশান, গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাসেম, কক্সবাজার জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগ সভাপতি খালেদ নেওয়াজ আবু, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ক্যাশিয়ার বিপন বড়ুয়া, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য স্বপন বড়ুয়া, ব্যবসায়ী শফিউল আমিন প্রমুখ।

খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু ক্রীড়া সংগঠক পলক বড়ুয়া আপ্পু’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আনন্দঘন এ শুভেচ্ছা কথন অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন, বন্ধু সম্মিলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব রূপন শর্মা।

শুভেচ্ছা কথন অনুষ্ঠানের বন্ধু বক্তারা বলেন, খিজারীয়ান ৮৬’র সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। এ সংগঠনের কার্যক্রমকে সুদূর প্রসারী করতে সকল বন্ধুদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

বন্ধু সম্মিলন আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেন খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধুরা।

মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল ঘোষনা করেন, খিজারীয়ান ৮৬’র সাংগঠনিক কার্যক্রমকে পোক্ত করতে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। বন্ধু সম্মিলনের বন্ধুরা ঐক্যমত হয়েছেন, এ কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে। তিনি খিজারীয়ান ৮৬’র সাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্য ১ লক্ষ টাকার অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর খিজারীয়ান বন্ধু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম মাইক্রোফোনে খিজারীয়ান ৮৬’র নতুন কমিটির তিন জনের নাম ঘোষনা করেন।

খিজারীয়ান ৮৬’র প্রধান সমন্বয়ক খালেদ শহীদকে সভাপতি, সমন্বয়ক স্বপন বড়ুয়াকে সাধারণ সম্পাদক ও বন্ধু সম্মিলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব রূপন শর্মাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

Ramu Kheezharian-86

দু’সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির গঠন করার অনুরোধ জানানো হয়। এ কমিটির কার্যকাল এক বছর নির্ধারণ করা হয়। বন্ধু সম্মিলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন বন্ধুতার স্বার্থরক্ষার এ সিদ্ধান্তকে অনুষ্ঠানে সকল বন্ধুদের পক্ষ থেকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানস্থলের বন্ধুরা হাত উঠিয়ে এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের সঞ্চালনায় বন্ধুপত্নিদের বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠান। খিজারীয়ান ৮৬ বন্ধু সাইমুম সরওয়ার কমলের সাবলিল ও চিত্তাকর্ষ কথনে বন্ধুপত্নি’র বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠে আকর্ষনীয় ও উচ্ছলতাপূর্ণ। বন্ধুপত্নিদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, খিজারীয়ান-৮৬ বন্ধু ব্যবসায়ী আবদুর রহিমের স্ত্রী রামু কলেজের প্রভাষক হুমাইরা আকতার, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের স্ত্রী শারমিন আকতার, ডাকঘর কর্মকর্তা মুবিনুল হকের স্ত্রী মেহেরুন নিসা, শিক্ষক স্বপন বড়ুয়ার স্ত্রী লট উখিয়াঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাপলা বড়ুয়া, রাজনীতিক খালেদ নেওয়াজ আবু’র স্ত্রী নাহিদা আকতার রানী, শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী শিক্ষিকা শাহেনা আকতার, শিক্ষক প্রভাত কুমার শর্মা’র স্ত্রী গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিমলা প্রভা দে, রাজনীতিক ফরিদুল আলমের স্ত্রী ফরমুন আকতার, ব্র্যাক কর্মকর্তা তরুন বড়ুয়ার স্ত্রী কিশলয় আদর্শ বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কাকলী বড়ুয়া, শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা বিপন বড়ুয়ার স্ত্রী জেমসেন স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক লিপি বড়ুয়া, ব্যবসায়ী শফি উল্লাহ’র স্ত্রী রেহেনা ইয়াসমিন, ক্রীড়া সংগঠক প্রবাল বড়ুয়া নিশানের স্ত্রী রমা বড়ুয়া, ব্যবসায়ী নুরুল হকের স্ত্রী সেলিনা পারভীন, প্রবাসী কলিম উল্লাহ’র স্ত্রী শাহিনা আকতার, ইউপি সদস্য স্বপন বড়ুয়ার স্ত্রী উৎপলা বড়ুয়া, বৃক্ষ গবেষক কিশোর কুমার বৈদ্য ময়নার স্ত্রী শাপলা দে, রাজীতিক ও ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন কাজলের স্ত্রী সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান মুন্নী, ব্যবসায়ী ফজলুল করিমের স্ত্রী সায়মা তছলিম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেনের স্ত্রী রওশন আরা, সাংবাদিক খালেদ শহীদের স্ত্রী সাফিয়া ফারজানা রাফি ও সাংসদ কমলের স্ত্রী সৈয়দা সেলিনা সরওয়ার প্রমুখ।

স্মৃতিকথন, হাস্য-কৌতুক ও শিশুদের উচ্ছলতায় খিজারীয়ান ৮৬’র বন্ধু সম্মিলন এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এ আয়োজনকে আরো অনন্য করে তোলে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান।

খিজারীয়ান বন্ধু রূপন শর্মা প্রথম, আজিজুল হক সিকদার দ্বিতীয় ও হাছান আজিজ তৃতীয় পুরষ্কারটি জিতে নেন। পলক বড়ুয়া আপ্পু’র উপস্থাপনা, খালেদ শহীদ ও স্বপন বড়ুয়ার পরিচালনায় র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিল দারুণ উপভোগ্য।

এতে আরো ২৭ জন খিজারীয়ান বন্ধু র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে পুরষ্কার পান।

বিকেলের আলো না ফুরাতেই সবাই ছুটেন ইনানী পাথুরে সৈকতে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৈকতের প্রবাল পাথরে দাঁড়িয়ে ভ্রমন পিপাসুরা ছবি উঠিয়েছেন। শেষ বিকালে সাগরের লবনাক্ত পানিতে ডুব দিয়েছে প্রবাল পাথর। খিজারীয়ান বন্ধুরা পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ান ও ছবি তোলেন। সৈকতের বালুকা বেলা রাঙিয়ে সূর্য ডুবতে থাকে, একই সাথে খিজারীয়ান বন্ধুরাও ফিরতে প্রস্তুতি নেয় আপনালয়ে ফেরার। রাত ৮টার দিকে খিজারীয়ান-৮৬ বন্ধুরা রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। এরপর বন্ধুতার জয়গানে বাড়ি ফিরেন।