বিয়ের নিবন্ধন হলে অধিকার বাড়বে হিন্দু নারীর

রাজধানীর আসাদগেটের ক্যাথলিক মিশন কনফারেন্স সেন্টারের দোতলার সম্মেলনকক্ষে বেশ জটলা। বিভিন্ন বয়সী দম্পতি জোড়ায় জোড়ায় বসে ফরম পূরণ করছেন। কারও সঙ্গে সন্তানেরাও এসেছে, উৎসুক দৃষ্টিতে তারা বাবা-মায়ের বিয়ের নিবন্ধন ফরম পূরণ করা দেখছে। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিয়ে নিবন্ধনের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানেই কথা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম রূপ রতন পাইন ও ব্যাংকার অর্চনা মানি দাসের সঙ্গে। এই এপ্রিলে তাঁদের বিয়ের ১৯ বছর পূরণ হবে। কিন্তু এখনো তাঁরা বিয়ের নিবন্ধন করেননি। এই দম্পতি জানান, শুধু বিশ্বাস ও সামাজিকতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের সম্পর্ক। কিন্তু এখন তাঁরা মনে করছেন, এটার আইনি স্বীকৃতি থাকা উচিত। তাতে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা এড়ানো যাবে।

অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ২০১২ সালে সরকার হিন্দু বিবাহ আইন প্রণয়ন করেছে, ২০১৩ সালে করেছে বিধিমালা। কিন্তু ওই আইনে নিবন্ধনের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, ‘হিন্দুদের বিয়ে-পরবর্তী অধিকার নিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আরও অনেক পথ এগোতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথি নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে নির্বাচিত সাংসদ ছবি বিশ্বাস বলেন, কোনো আইন সব সময় এক জায়গায় থেমে থাকে না। প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়ের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বেসরকারি সংস্থা বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ। অনুষ্ঠানে ১২০ থেকে ১৫০ জন হিন্দু দম্পতি তাঁদের বিয়ের নিবন্ধন করেন।

(প্রথম আলো থেকে নেয়া)