শুভ জন্মদিন “বন্ধু”

নঈম আল ইস্পাহান:
আমি আর ইমু।কখনো আমাদের তৃতীয় কাউকে প্রয়োজন হয়নি।স্কুল ছুটি হলেই দুজন টু,টু করতে বের হয়ে যেতাম।কখনো সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতাম না।সারাক্ষণ গলায়,গলায় হাত থাকত দুজনের।দস্যিপনা,ক্রিকেট খেলা,পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া,বিভিন্ন বলিউড নায়িকার রুপের গুণকীর্তন করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।ক্যাটরিনা সুন্দর,প্রিয়াঙ্কা সুইট,কারিনা ফর্সা এসবই বেশি অালোচনা হত।মাঝে,মাঝে ক্যাটরিনাকে বিশ্রি বললে ইমু রেগে যেত।সেসময় ক্যাটরিনার তুমুল জনপ্রিয়তা ছিল।ইমু ক্যাটরিনাকে মনে মনে খুব ভালবাসতো!

ক্লাস এইটের রেজাল্ট দুজনেরই খারাপ হলো।ইমু এলাকার স্কুল ছেড়ে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে ভর্তি হলো।আমি একা হয়ে গেলাম।স্কুল ছুটিতে মাঝে মাঝে ইমু বাড়িতে আসত।সে যখন চলে যেত আমার খুব খারাপ লাগত।সবসময় ইমুকে মিস করতাম।অবশ্য সেসময় একটা গার্লফ্রেন্ড থাকলে ভালো হত।ইমুকে ভুলে প্রেম করা যেত।তবে গার্লফ্রেন্ড কে অবশ্যই কালো হলেও সুইট হতে হত!

রমজানের বন্ধে ইমু বাড়িতে আসল।আমরা সব বন্ধুরা তারাবীর নামায না পড়ে ইমুর স্কুল,হোস্টেলর গল্প শোনতাম।ইমু তার ক্লাসের এক মেয়েকে পছন্দ করত।আমরা ইমুকে সারাক্ষণ তার কথা জিঞ্জেস করতাম।সে কেমন,কি রকম এসব জানতে চাইলে ইমু বলত,সে দেখতে ক্যাটরিনার মত।খুব ভালো,লক্ষী একটা মেয়ে।

এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ইমু এলাকায় চলে আসে।আমরা দুই বন্ধু আবার এক হলাম।কিন্তু বেশিদিনের জন্য না।ইমু এক চিল্লায় তাবলীগ জামাআতে চলে গেল।সেই চল্লিশ দিন ইমুকে খুব মিস করেছি।

এসএসসি পরীক্ষায় দুজনেই ভালো রেজাল্ট করলাম।ইমু বাড়িতে পাকাপোক্ত হয়ে গেল।স্থানীয় একটি কলেজে সে এডমিশন নেয়।কিন্তু,আমাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হল।সপ্তাহে একবার আমি দুদিনের জন্য বাড়িতে চলে আসতাম।সপ্তাহের বাকি দিনগুলোই ইমু সহ সব বন্ধুদের খুব মিস করতাম।

সেদিন ২০১৫সালের ১৫মে’র দুপুরবেলার ঘটনা।আমি,আবিদ,ইমু আরো অনেকে ক্রিকেট খেলছিলাম।হঠাত,ছোট একটি কারণে ইমুর সাথে আমার তর্কাতর্কি হল।এক পর্যায়ে আমি ইমুর গায়ে হাত তুললাম।এর পরের ঘটনা দুজনের জন্য খুবই তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল।কেউ কারো মুখ দেখাদেখি করিনি টানা দেড় বছর।সামনে পড়লে না দেখার ভান করে চলে যেতাম।ইমু আমাকে ফেসবুকে ব্লক করে দিল।এখনো পর্যন্ত আনব্লক করেনি।

গত বছর কোরবানির ছুটিতে দুজন কথা বললাম।আবার প্রিয় বন্ধুকে ফিরে পেয়ে আমি খুশিতে দিশেহারা।খুব ভালো লাগছিল যখন ইমু আমার সাথে আগের মত কথা বলছিল।আমরা দুজনের এলাকাতে বন্ধুর তালিকা খুবই নগণ্য।একে অপেরর কখনো অন্য কাউকে দরকারই পড়েনি।আমরা আগের মত হয়ে গেলাম।ইমু অনার্সে ভর্তি হল।সে বাইরে কোথাও যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে লাগল।আমি বার বার তাকে বুঝালাম ভাল করে পড়।বাইরে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।আমি কখনোই চাইনা প্রিয় বন্ধুটি বাইরে চলে যাক।তাকে অনেকদিন দেখতে পাবোনা,আবার একা হয়ে যাব এমনটা কখনো চাইনা।গত ডিসেম্বরে ইমু কক্সবাজার চলে গেল।বাড়িতে থেকে পড়ালেখার সমস্যা হচ্ছিলো।ইমুকে খুব মিস করি।মাঝে মধ্যে কক্সবাজার গেলে ইমুর সাথে দেখা না করে আসিনা।

আজ ৫ জানুয়ারি।ইমুর জন্মদিন।এই দিনে আমার প্রিয় বন্ধুটি পৃথিবীতে ওয়াও ওয়াও কান্না করে তাদের বাড়ির সবার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল।”শুভ জন্মদিন” ইমু।অনেক বছর বেঁচে থাক।অনেক,অনেক বড় হবি তুই।দেখিস!