ছড়াপুত্রের ৮০তম জন্মদিন: তৃপ্ত হওয়া মানে তো শেষ হয়ে যাওয়া : সুকুমার বড়ুয়া

সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের নন্দিত ছড়াশিল্পী। জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি। তার ছন্দকুশলতা, ভাবনার স্বকীয়তা এবং বিষয়ের চমক পাঠকের মনে মুহূর্তেই আনন্দ সঞ্চার করে। পাগলা ঘোড়া, ভিজে বিড়াল, ঠুসঠাস, ছড়া সমগ্র, লেজ আবিষ্কার, মজার পড়া ১০০ ছড়া ছাড়াও প্রায় ত্রিশটি ছড়াগ্রন্থের রচয়িতা সুকুমার বড়ুয়া বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, অগ্রনী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। আজ ৫ জানুয়ারি তার ৮০তম জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে তার লেখালেখি ও নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন কবি ও নির্মাতা শ্যামল চন্দ্র নাথ। রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।

শ্যামল : ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি আপনার জন্ম চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে। আপনার ওই সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং শৈশব কেমন কেটেছিল?
সুকুমার বড়ুয়া : শৈশবের কথা যে বলবো, তখন আমাদের গ্রামে কোনো সাইকেলও দেখি নাই। হেঁটেই সবাই স্কুলে যেতো। স্কুল একটা ছিল। খুব কম ছেলেমেয়েই স্কুলে যেতো। ওখানে বোধহয় একদিন গিয়েছিলাম আমার দিদির সঙ্গে। দিদি মারা গেছেন। পাখির ডাক ছাড়া আর পাড়া-পড়শি খুব কম ছিল আরকি। এই ওদের সাথে খেলাধুলা করা, ছড়া-টড়া করা, ওই গ্রাম্য ছড়া আরকি। খেলাধুলার সময় যেসব ছড়া বলে আরকি সেগুলো বলতাম।
শ্যামল : আপনি যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন উনার বাবা শিক্ষক ছিলেন। আপনার লেখালেখির খবর উনি জানতেন?
সুকুমার বড়ুয়া : উনি গ্রামের শিক্ষক ছিলেন তো, এগুলোর খবর রাখতেন না খুব একটা। তবু শুনেছেন আরকি। তখন তো ১৯৬৪ সাল। তারও ছয় বছর আগে থেকে আমি লেখালেখি আরম্ভ করি। তিনি জানতেন আমি কবি। গ্রামে তো এইসব লেখালেখির দাম দেওয়ার দরকার নাই। ওদের সবচেয়ে দাম দেওয়ার বিষয় বা মূল্যবান ছিলো পেটের ভাত।
শ্যামল : দ্বিতীয় শ্রেণী শেষ করার পর আপনার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। আর্থিক অনটনের কারণেই কি আপনার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়?
সুকুমার বড়ুয়া : দ্বিতীয় শ্রেণী নয়, তৃতীয় শ্রেণীতে ওঠার পর আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। আমি যখন পড়ালেখা করি তখন পরের বাড়িতে ছিলাম। পরের বাড়ি থেকে আমাকে যে কিছুদিন স্কুলে যেতে দিয়েছে এটাই আমার ভাগ্য। আমি পরীক্ষা দিতে যাবো, উনি আমাকে পরীক্ষা দিতে দিলেন না। আমার পড়ালেখার অবস্থা ভালো দেখে হেডমাস্টার নিজেই পরীক্ষার ফি দিতে রাজি হলেন। তারপরেও আমাকে পরীক্ষা দিতে যেতে দিলেন না। আমি যখন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলাম তখন আমাকে ওই বাড়ির মহিলা জিজ্ঞেস করলেন কোথায় যাচ্ছো? আমি বললাম, পরীক্ষা দিতে যাই। তিনি বললেন, ‘না যেতে হবে না। আমার বাচ্চা সামলাও।’ ওনার দুই ছেলে ছিল। তাদের পড়ালেখা বন্ধ করে নাই। কিন্তু আমার পড়ালেখা বন্ধ করে দিলো।
শ্যামল : সেই সময়ে আপনি কষ্ট পেয়েছিলেন?
সুকুমার বড়ুয়া : আমার ভিতর খুব কষ্ট কাজ করেছিল। খুব আহত হয়েছি মনে মনে।
শ্যামল : আপনার মামারাও তো তখন আপনার এই অবস্থার কথা জানতেন, তারা কী করলেন?
সুকুমার বড়ুয়া : আমার মামারাও খুব গরীব ছিলেন। মামা সামান্য কনেস্টেবলের চাকরি করতেন। তারমধ্যে তার মা, স্ত্রী, উপরি আবার আমরা গিয়ে পড়লাম। মামার বাড়িতে কোনো জায়গা জমি ছিল না। বাড়তি কোনো সম্পত্তি ছিল না। মামা টাকা পাঠালেই খাওয়া চলতো। একবার দেড় টাকা মানি অর্ডার করেছিল। তখন খুব আকাল চলছিল। খুব আকাল। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা চলছে। আর মানুষ হাহাকার করছে। দিনরাত ভাতের জন্য মানুষ মারা যাচ্ছে। তবু কিভাবে যে আমি বেঁচে রইলাম এটাই আশ্চার্য।
শ্যামল : আপনি তো বিভিন্ন সময়ে মেসে কাজ করেছেন। একসময়ে ফলমূল, আইসক্রীম, বুট-বাদাম ফেরি করে বিক্রি করেছেন। সেই সময়কার কথা যদি বলতেন।
সুকুমার বড়ুয়া : তখন আমি মনে করতাম যে, ব্যবসা করলে বোধহয় অনেক লাভ হবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। বাবুর্চির কাজ করি নালাপাড়ার মেসে থেকে। আমার মা তখন বেঁচে ছিলেন। ধনিয়ালী পাড়ায় বাসা ভাড়া নিলাম। তখন আইয়ুব খানের যুগ। খুব একটা অসুবিধায় পড়িনি। আমার মা খুব খুশি হয়েছিলেন যখন তাকে আনতে গেলাম। তিনি খুব গর্ব করে বলেছিলেন- ‘এক পুতি করে আশা/ সাত পুতির বনে বাসা।’ কিন্তু আর ওখানে থাকা হল না। আবার মেসে ফিরে আসি। তখন আবার লেখালেখিও ভালোভাবে শুরু করেছিলাম। স্কুলের সামনে বসতাম, চানাচুর, আইসক্রীম বিক্রি করতাম। যে মেসে থাকতাম ওখানে ১৫টাকা বেতন দিত। মায়ের কাছে টাকা পাঠাতে খুব অসুবিধা হতো। মা এদিক সেদিক কাজ করতেন।
শ্যামল : এরপর ঢাকায় চলে এলেন। ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে ৬৪ টাকা বেতনের চাকুরীতে যোগ দিলেন। সেই প্রসঙ্গে যদি বলতেন।
সুকুমার বড়ুয়া : আমি ১৯৬০ সালে ঢাকায় চলে এলাম। এসে গেলাম বৌদ্ধ মন্দিরে। সেখানে পেলাম ডিপি বড়ুয়াকে। তিনি আমাকে কাজ দিবেন বলেছেন। ওনারা একটা পাঁচ-সাত জনের মেস নিয়েছেন। মনে হয় পয়ত্রিশ টাকা ভাড়া দিতেন। কিছুদিন পর মেস ভেঙে গেল। এরপর ওয়ারীতে একটা বাসায় কাজ দিলেন। ওরা ত্রিশ টাকা বেতন দিত। তখন আর ভালো লাগছিল না। অনেক কাজের চাপ। লেখালেখি তো আর হয়ই না। এরমধ্যে আমার মা মারা গেলেন। এরপর আমি আবার ডিপি বড়ুয়ার কাছে আসলাম। তিনি ১৯৬২ সালে নিউট্রিশন সার্ভে নামে একটা প্রজেক্টে কাজ দিলেন। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি।
শ্যামল : চাকুরি করতে গিয়ে লেখালেখিতে অসুবিধা হয়েছে?
সুকুমার বড়ুয়া : যখন চাকরি করি তখন আমি তোপখানা রোডে থাকতাম ডিপি বড়ুয়ার বাসায়। তখন তেমন অসুবিধা হয়নি। তারপরে বিকেল হলে আড্ডা জমতো আউটার স্টেডিয়ামে। তখন অবশ্য স্টেডিয়াম হয়নি। আড্ডায় রশীদ সিনহা, আখতার হুসেন, সিরাজুল ফরিদ, আলী ইমাম, শফিকুল হক আসতেন। তখন ১৯৬৬-৬৭ সাল। খুব রাজনৈতিক উত্তাপ চলছে। তখন আন্দোলন চলছে আইয়ুব খান বিরোধী। তারপরে ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের সময় একটা ছড়া লিখলাম। ওটা নাকি ফরাসি ভাষায়ও অনুবাদ হয়েছে। আবার ইন্ডিয়া রেডিওতে নাকি প্রচার হয়েছে। লেখাটা ছিল- ‘চিচিং ফাঁক হে, চিচিং ফাঁক/ বন ময়ূরের পুচ্ছ পরে নাচছিল সব শকুন খাক/ দমকা জ্বরে হঠাৎ করে ঘটিয়ে দিল ঘুর্বিপাক/ চিচিং ফাঁক হে, চিচিং ফাঁক।’ আমার ডিপার্টমেন্টের টিচারেরা আমার লেখা খুব পছন্দ করতেন। এরপর ১৯৭০ সালে আমার একজন টিচার আমার লেখার কাটিংগুলো নিয়ে আব্দুল হাই সাহেবের কাছে পাঠালেন। আব্দুল হাই সাহেব একটা চিঠি লিখে কবি আলী আহসানের কাছে দিয়েছেন। তখন লুৎফুল হায়দার চৌধুরী ওনাকে দিলাম দেখার জন্য। এরপর বাইশটি ছড়া নিয়ে আমার প্রথম গ্রন্থ ‘পাগলা ঘোড়া’ প্রকাশিত হলো। সেই তো শুরু।
শ্যামল : আপনি এরপরে আরো অনেক গ্রন্থ লিখেছেন। ১৯৭৭ সালে আপনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। এই যে স্বীকৃতি পেলেন তার অনুভূতি কেমন ছিল?
সুকুমার বড়ুয়া : আমাদের কাছে মাসুম নামে একজন থাকতেন। উনি বাংলা একাডেমির অফিসার। উনি যখন বললেন, ওনার পায়ের ধুলা নিলাম। ১৯৭৮ সালে দেওয়া হলো বাংলা একাডেমী পুরস্কার। ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। ভালোই লেগেছে।
শ্যামল : সুকুমার অর্থ সু-পুত্র। বাবা মার কাছে সু-পুত্র হতে পেরেছিলেন?
সুকুমার বড়ুয়া : আমাকে গ্রামে ডাকতো আমার বাবার দেওয়া নামে। সেই নাম ছিল ‘বিলাতী।’ আমি যখন মামার বাড়িতে আসলাম তখন মামী বললেন, ‘বিলাতী- এটা আবার কী নাম! এটা কেমন লাগে? তোমার নাম হবে সুকুমল।’ পরে আবার মামা ডাকলেন সুকুমার। এখান থেকেই আমার নাম হয়ে গেল সুকুমার। বাবাকে ছয় বছর বয়সে হারিয়েছি। উনি চারবার বিয়ে করেছেন। ওনার পুত্র সন্তান বাঁচে না। আমি বোধহয় তের নম্বর ছিলাম। একটা ছেলে সন্তানের জন্য অনেক মানত করেছেন। এই মুসলিম দরগায়, হিন্দুদের ত্রিনাথের পূজা। একদিন বাবা হাট থেকে ফিরছেন আর বলছেন, ‘আমার কেনো ছেলে হলো না। আমি কেনো মরলাম না।’ সেই সাধনার ছেলে আমি।
শ্যামল : একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে যাচ্ছি। আমরা তো সুকুমার রায়কে চিনি, যিনি মাত্র ৩৬ বছর বেঁচে ছিলেন। আপনার লেখালেখির শুরুর দিককার লেখকদের কথা বলবেন- যাদের দ্বারা আপনি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
সুকুমার বড়ুয়া : আমি প্রথমে সুকুমার রায়ের লেখার সাথে পরিচিত হইনি। প্রথম দিককার জীবনে সুনির্মল বসু আমার ভিতরে এমনভাবে ঢুকেছে যে তার ‘হুলস্থুল’ বইটা পুরা মুখস্ত করছিলাম। যেখানে কাজ করতাম। ওখানে অভিনয় করে করে আবৃত্তি করতাম। ওরা খুব মজা পেত। খুব উৎসাহ দিত।
শ্যামল : আপনি অনেক সময় ধরে লেখালেখি করছেন। এই ৫ তারিখ আপনার ৮০তম জন্মদিন। এই বয়সে এসে আপনার কী মনে হয়, আপনি কাদের লেখা দ্বারা প্রভাবিত কিংবা আন্দোলিত হয়েছেন?
সুকুমার বড়ুয়া : ওই যে আড্ডা জমাতাম ওখান থেকেই আমি ঋদ্ধ হয়েছি। মোহাম্মদ মোস্তফার একটা ছড়া আমাকে প্রভাবিত করেছে- ‘বিসুদবারে শুনতে পেলাম বিবর গাঁয়ের বিবিদ/ ঢোল পিটিয়ে বলছে দেবে ধান চাল রিলিফ/ মাথায় নিয়ে চালের ভাণ্ডো গিয়ে দেখি অবাক কাণ্ড/ চেয়ারম্যানকে খুশি করলেই ইস্যু করেন স্লিপ।’ এটা রিমেরিক। মাহমুদুল্লারও এইরকম লেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি।
শ্যামল : আপনি শুধু ছড়া লিখেই আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে, বাংলা ছড়া সাহিত্যে আপনি যা করতে চান বা চেয়েছেন তা করতে পেরেছেন?
সুকুমার বড়ুয়া : না, তাতো পারিনি। তৃপ্ত হওয়া মানে তো শেষ হয়ে যাওয়া। তৃপ্তি হয়নি আমার।

শ্যামল : প্রথমেই আপনার ছড়াগ্রন্থ ‘পাগলা ঘোড়া’র কথা বললাম। এরপর ‘ভিজে বিড়াল, ঠুসঠাস এবং ১০০ মজার ছড়া সংকলনও বের হয়েছে আপনার। আপনার প্রিয় বই নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
সুকুমার বড়ুয়া : আমি আমিরুল ইসলামের কাছে এই ব্যাপারে খুব কৃতজ্ঞ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে একটা বই বের হয়েছে। এই পর্যন্ত ওটার সাতটি মুদ্রণ হয়েছে । দেখি শুধু টাকা আসছে।
শ্যামল : আপনি লিখেছেন- ‘শেয়াল নাকি লোভ করে না পরের কোনো জিনিশটার/ কী পরিচয় দিল আহা কী সততা কী নিষ্ঠার…/ তাইতো শেয়াল বনের মাঝে এডুকেশন মিনিস্টার।’
সুকুমার বড়ুয়া : এটা আসলে শব্দ মিলের জন্য লিখেছি। কোনো কিছু ভেবে লিখিনি। আমি যেমন লিখেছিলাম- ‘অমুক দেশের অমুক/ পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে…/মুচকি হেসে বলেন তিনি/ তোমার বোঝা কমুক।’ এটাকে আবু জাফর সাহেব ব্যাখা করছেন আইয়ুব খানের কাঁধে বন্ধুক রেখে যে দশ বছর পাকিস্তান শাসন করা হয়েছে এটা। অথচ আমি ওটা চিন্তা করিনি।
শ্যামল : আপনি বাবাকে শৈশবেই হারান। মাকে পরে হারান- তাদের স্মৃতি নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
সুকুমার বড়ুয়া : বাবাকে আমি আমার ছয় বছর বয়সেই হারাই। মাকে হারাই ১৯৬১ সালে। মানে বাবা মারা গেছেন ১৯৪৩ সালে তার আঠারো বছর পরে মা মারা যান। তাঁদের কথা খুব মনে পড়ে।
শ্যামল : বাংলা সাহিত্য অনেকেই ছড়া লিখেছেন। আপনার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারো নাম বলবেন কী?
সুকুমার বড়ুয়া : আমি অন্নদাশংকর রায়ের কথা বলবো, আগে তো সুকুমার রায় ছিলেনই।
শ্যামল : আপনি যখন লেখেন তখন আপনার ভিতর কারো লেখা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে?
সুকুমার বড়ুয়া : তখন আমি সুকুমার রায় পড়ছি। ওনাকে অনুকরণ করে একটা ছড়া লিখলাম। তখন আমি খুলনায় নিউট্রিশন সার্ভেতে গিয়েছিলাম। মানুষের রক্ত আর ইউরিন পরীক্ষা হচ্ছিল। তখন ডাক্তাররা মানুষদের দুধ ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু মানুষের পরনের কাপড়ই ঠিকমত নাই। তারা দুধ খাবে, ডিম খাবে কোত্থেকে। আমি লিখলাম- ‘রোগের বয়স পঞ্চবর্ষ/ ডাক্তারে দেন পরামর্শ/ স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে/ অবিলম্বে যাবেন চলে/ পুরি কিংবা আগরতলা/ দুগ্ধে খাবেন সাগরকলা/ না হয় যাবেন কক্সবাজার/ বড়ি খাবেন একশো হাজার/ কই মাগুর আর মুরগি স্যুপ/ খেতে পারেন ইচ্ছেরূপ।’
শ্যামল : আপনি এই যে জীবন কাটিয়ে এলেন। আপনার কাছে জীবনের মানে কী?
সুকুমার বড়ুয়া : জীবনের মানেটা তো চিন্তা করি নাই। কীভাবে যে এতদূর এসে পড়লাম! এই জীবনে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি হয়েছে বলেই মনে হয়।