সামাজিক বনায়ন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্থে-উখিয়ায় ২৫টি অবৈধ করাতকল বহাল তবিয়তে

হানিফ আজাদ, উখিয়া।
উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ২৫টি করাতকলে প্রতিনিয়ত চিরাই হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ।

অভিনব কায়দায় স্থাপন করা এসব করাতকল মুহুর্তেই খুলে ফেলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হওয়ায় প্রশাসনের অভিযান বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বন সম্পদ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্থে উপনীত হওয়ার পাশাপাশি সরকার ও উপকারভোগীদের যৌথ মালিকানায় গড়ে উঠা সামাজিক বনায়ন প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, এ উপজেলার মরিচ্যা, হলদিয়া, পাতাবাড়ী, রুমখাবাজার, ঝাউতলা, হিজলিয়া, হাজিরপাড়া, ফলিয়াপাড়া, কুতুপালং, কচুবনিয়া, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী এলাকায় অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ২৫টি করাতকলে নির্বিচারে সরকারী বনসম্পদ ও সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের বেড়ে উঠা মূল্যবান গাছ-গাছালি লুটপাটের মাধ্যমে চেরাই করে বাজারজাত হয়ে আসছিল দীর্ঘ দিন থেকে।

যার ফলে এ উপজেলার ৩০ হাজার ৮ শ একর সরকারি বনভূমির গাছ সম্পদ শূণ্যের কোটায় চলে এসেছে। এমতাবস্থায়, বর্তমান সরকার বনসম্পদ উন্নয়নে বিকল্প পন্থায় উপকারভোগীদের মাধ্যমে ১৯৯৮ সনে উখিয়া রেঞ্জের ৮টি বনবিটে প্রায় ১৮শ একর সামাজিক বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

থাইংখালী সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা একাধিক লোকজন জানান, অবৈধ করাতকল সিন্ডিকেটের সংঘবদ্ধ কাঠচোর চক্রের সদস্যরা প্রতিরাতে সামাজিক বনায়নের গাছ লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। উপকারভোগীদের দাবী এলাকায় অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত করাতকল উচ্ছেদ করা না হলে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের গাছ-গাছালি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ সহ করাতকল স্থাপন করায় সংশ্লিষ্ট জমির বা জায়গার স্বত্ত্বাধিকারীকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র শাহার নেতৃত্বে বনকর্মীরা থাইংখালী গৌজঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি অবৈধ করাতকল উদ্ধার করলেও সংশ্লিষ্ট জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে বহাল তবিয়তে চলমান ২৫টি করাতকলে দৈনিক হাজার হাজার ঘনফুট চোরাই কাঠ সাইজ করা হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, তার বনবিটের আওতায় ৩টি অবৈধ করাতকল রয়েছে। এ ব্যাপারে বনরেঞ্জ কর্মকর্তাকে অভিহিত করা হয়েছে বলেও তিনি মতামত ব্যক্ত করে বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ, বিজিবি ছাড়া এসব করাতকল উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

অবৈধ করাতকলের ব্যাপারে বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সহকারি বন সংরক্ষক সরওয়ার আলম জানান, উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় যে সমস্ত অবৈধ করাতকল রয়েছে ওইসব করাতকল উচ্ছেদ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরো বলেন, যে কোন মুহুর্তে অভিযান চলতে পারে।