উখিয়া পুলিশের উদ্ধার করা কংকাল নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা

শহিদুল ইসলাম, উখিয়া:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ন পালংখালীর বালুখালী চাঞ্চল্যকর আলমগীর ভুলু নিখোঁজের ৮২ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী।

তার নিকটাত্মীয় ও পাড়াপ্রতিবেশীদের দাবী আলমগীর ভুলু এখনো বেঁচে আছেন। তাকে স্ব-পরিবারে লুকিয়ে রেখে হত্যা মামলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টায় ইয়াবার টাকা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে দেন দরবার করা হচ্ছে।

এ ঘটনা নিয়ে আলমগীর ভুলুর ভাই জিয়াবুল হক বাদী হয়ে স্থানীয় বক্তার আহামদ, জাহাঙ্গীর, আবছার, সিরাজুল কবির, বালু ভুট্টো, ডাকু রাসেল ও আলমগীর সহ ৮ জনকে আসামী করে আদালতে ১টি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে ৭ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এজাহারে বর্ণিত আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ ইয়াবা ব্যবসায়ী চক্র। তারা কৌশলে ইয়াবা পাচারের জন্য এলাকার হতদরিদ্রদের নানা প্রলোভনে প্রলুব্ধ করে ইয়াবা বাহক হিসেবে ব্যবহার করে। অনুরূপ বালুখালীর শিয়াল্যা পাড়া গ্রামের অসহায় আলমগীর ভুলু (৩৬) কে ইয়াবা আসক্ত করে তার মাধ্যমে অভিনব কৌশলে ইয়াবা পাচার করতে থাকে।

গত ৩ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে কনডমে মোড়ানো ইয়াবার প্যাকেট আলমগীর ভুলুর পায়ুপথে ঢুকিয়ে পাচার করার প্রস্তুতি নিলে দূর্ভাগ্যক্রমে ইয়াবার প্যাকেট ছিড়ে গিয়ে আলমগীর ভুলু মাতাল ও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

গত ৮ ডিসেম্বর আলমগীর ভুলুকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে প্রতিপক্ষরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে আলমগীর ভুলু স্ব-পরিবারে নিখোঁজ হয়ে যায়।

আলমগীর ভুলুর বড় মামা আবদুল হক (৫৫), খালাম্মা চেমন বাহার (৬০) ও খালাত ভাই আবদুর রহিম সহ পাড়া প্রতিবেশিরা জানায়, আলমগীর ভুলুর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাড়ির মালামাল বিক্রি করে কোথায় চলে গেছে তা আমাদের জানা নেই। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড়া সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১ জানুয়ারি উখিয়া থানা পুলিশ বালুখালী জুমের ছড়া গভীর জঙ্গল থেকে একটি কংকাল উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। এ সময় লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ কক্সবাজার সরকারি কবরস্থানে কংকালটির দাফন সম্পন্ন করে।

উক্ত কংকালটি আলমগীর ভুলুর দাবী করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল নিরহ গ্রামবাসীকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। কংকাল উদ্ধারের ১৮ দিন পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের আলামত উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের মাঝে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মামলা, পাল্টা মামলা, পুলিশের গ্রেফতার আতংক নিয়ে বালুখালী এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফজল কাদের ভুট্টো জানান, রাজনীতিক প্রতিহিংসার জের ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বালুখালী জুমের ছড়া থেকে উদ্ধার করা কংকালের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত পৃথক ২টি মামলায় বর্ণিত আসামীদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।

উখিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া জানান, স্পর্শকাতর এ ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।