‘যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা প্রদানকারীরাও অপরাধী’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের হাতে যারা বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিল, মন্ত্রী বানিয়েছিল তারাও সমান অপরাধী। যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার হয়েছে, এদেরও বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।’খবর রাইজিংবিডির।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এ ত্যাগের ইতিহাস কখনো ভুলে যাবার নয়। আমি চাই, এই ইতিহাস মানুষ আরো ব্যাপকভাবে জানুক। একটা প্রজন্ম কিন্তু আমরা হারিয়েই ফেলেছি। তাই অন্তত আগামী প্রজন্ম, এখন থেকে যারা আস্তে আস্তে বড় হবে, প্রত্যেকেই যেন প্রকৃত ইতিহাসটা জেনে বড় হতে পারে। এতে তারা মানুষকে শ্রদ্ধা করবে, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদেরকে ভালবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং তাদের অনুসরণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিকূল অবস্থার মাঝেও এমন কিছু সাহসী ব্যক্তিত্ব ছিল, যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছেন। তখন যে সামরিক জান্তারা এসেছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এজন্য অনেকে অনেক রকমভাবে অপমানিত হয়েছে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তারপরও সবাই বিকিয়ে (বিক্রি) যায়নি। সবাই বিকিয়ে যায় না। সবাই বিকিয়ে যেতে পারে না। তাই যদি হতো, তাহলে আজকের বাংলাদেশ এখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারত না, এখানে আসা সম্ভব ছিল না। আজকে আমরা যেটুকু এসেছি, আমাদের প্রচেষ্টায় আমরা এটা করতে পেয়েছি। এখন আমাদের একটাই চেষ্টা থাকবে- আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আজকে যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, সেই চেতনা ধারণ করেই যেন এগিয়ে যেতে পারি।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই যে আল বদর বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের বিচার হয়েছে, তারাই এ দেশে মন্ত্রী হয়েছিল। তাদের হাতে ছিল আমাদের লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। যারা এদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিল তারাও সমান অপরাধী। যুদ্ধাপরাধীদের যেমন বিচার হয়েছে, এদেরও বিচার বাংলার মাটিতে হবে। আমি মনে করি, সময় এসে গেছে, দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা শুধু ভোগ করার বিষয় না। ক্ষমতা মানে একটা দায়িত্ব। সে দায়িত্বটা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এই দায়িত্বটা হচ্ছে জনগণের প্রতি। যে জনগণ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই হলো ক্ষমতার অর্থ।’

দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিজয় অর্জন করেছি। সেই চিন্তা করেই আমরা দেশ পরিচালনা করি বলেই এত উন্নতি করতে পারছি। কিন্তু ৭৫ সালের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের মাথায় তো এই চিন্তা ছিল না। তারা চেয়েছিল, বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক, বাংলাদেশের মানুষ দরিদ্র থেকে আরো দরিদ্র হোক, না খেয়ে মারা যাক, ক্ষুধার্ত মানুষের কঙ্কালসার দেহ দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা আনবে আর নিজেরা লুটেপুটে খাবে। সেই চিন্তা থেকেই তারা দেশের মানুষের দারিদ্র্য দেখিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ এনে লুটেপুটে খেয়েছে। অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে। এই চেষ্টা হয়েছিল ২১ বছর। ৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর মানুষের ভেতরে কিছুটা সচেতনতা আসে। দেশের মানুষ আরো সচেতন হয় ২০০১ সালে বিএনপি যখন জামায়াতকে নিয়ে আবার ক্ষমতায় আসে। এই ৫ বছর তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে মা-বোনদের ওপর অত্যাচার করেছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দেয়নি এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে।’