বর্মী সেনারাই রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওয়া পিক গ্রামে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পেছনে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এ তথ্য জানিয়েছে।রিপোর্ট রাইজিংবিডির।

ছবিতে দেখা গেছে, গ্রামটি যখন জ্বলছিল, তখন কাছেরই একটি সেনাক্যাম্পে তাদের ট্রাক যাতায়াত করছিল। এর অর্থ হচ্ছে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিল।

এইচআরডব্লিউ`র এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, ‘এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, এক মাস ধরে দুর্বৃত্তরা সেনাদের চোখের সামনে ওয়া পিকের ৩০০ বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল, আর তারা সেটা বসে বসে দেখল।’

তিনি বলেন, ‘স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া এই ছবির মাধ্যমে বার্মার সরকারি কর্মকর্তারা ধরা পড়ে গেছেন। তাদের ক্রমাগত অস্বীকৃতি যে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, সেটা এখন তাদের স্বীকার করার সময় এসেছে।’

এইচআরডব্লিউ`র এই বক্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র জ থেই বলেছেন রাখাইন রাজ্যের উত্তরের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই এ নিয়ে এখন তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

রোহিঙ্গাদের গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনা তদন্তে সরকারি একটি তদন্ত দল পাঁচদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো সফর করেছে। জানুয়ারির শেষ দিকে তারা তদন্ত প্রতিবেদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এইচআরডব্লিউ এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার পেছনে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হাজির করল। তবে মিয়ানমার সরকার প্রতিবারই বলে আসছে, সেনারা নয় বরং রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন দিচ্ছে। গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর ২৭ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।