গেমস-অ্যাপসে মুক্তিযুদ্ধ

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি:
কিছুকাল আগেও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রযুক্তি মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হতো কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, সিডি, ডিভিডি, পেন ড্রাইভ এবং অনলাইনে। এখনও সে সবে সংরক্ষণ করা হয়। তবে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে ‘নিয়ত বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ’কে চিরজাগরুক রাখতে নতুন মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হচ্ছে। আর এই মাধ্যম হিসেবে এখন এগিয়ে আছে গেমস ও অ্যাপস। গেমস ও অ্যাপসে মুক্তিযুদ্ধ একেবারে পরিপূর্ণরূপে উপস্থাপন করা না গেলেও বিশেষ কোনও ঘটনা দিয়ে তৈরি গেমস বা অ্যাপস এই প্রজন্মের জানার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করছে, ছড়িয়ে দিচ্ছে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউনের।

মোবাইল ফোনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেমস থাকলে অবসর সময়ে খেলা যাচ্ছে গেমস। চলতি পথে সময় কাটানো যাচ্ছে, ইতিহাসের এক বাঁক বদলে মুক্তিযোদ্ধারা কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ করেছেন সেসবও অনুধাবন করা যাচ্ছে। কোনও কোনও গেমস তো মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকায় খেলতে হচ্ছে, শত্রুকে খতম করার উপায় বের করতে হচ্ছে। অন্যদিকে অ্যাপসের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে মুক্তি সংগ্রামেরর কথা, দেখা যাচ্ছে দুর্লভ সব দলিলপত্র।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেমস ও অ্যাপসের সংখ্যা এখনও উল্লেখ করার মতো নয়। তারপরও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংখ্যায় কম হলেও উদ্যোগটা ভালো। ব্যক্তিগতভাবে অনেকে এগিয়ে এসেছেন এসব তৈরির কাজে। কিছু কিছু উদ্যোগে সরকারও সহায়তা করছে। তাদের আশা, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ ধরনের অসংখ্য অ্যাপস অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাবে। গেমস্পটে মিলবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেমস।

অ্যাপস ও গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আশ্রাফ আবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা একাত্তর নামে একটি অ্যাপস তৈরি করেছি। গেমস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনই নয়।’ তিনি জানালেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেমস ও অ্যাপসের সংখ্যা ৫০টির বেশি হবে না। এতো কম সংখ্যক হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, কনটেন্টের ঘাটতি রয়েছে। কোথাও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় না। দেখা যায়, প্রায় অ্যাপসেই একই ধরনের তথ্য, ছবি ও ভিডিওচিত্র। আসলে নতুন কিছু যুক্ত করা না হলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এসবের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে কেন?

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অ্যাপসের মধ্যে রয়েছে একাত্তর,একাত্তরের ডায়েরি, ইতি বাংলাদেশ,সাত বীরশ্রেষ্ঠ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-২৬ ইত্যাদি। আর গেমসের মধ্যে রয়েছে হিরোস অব ৭১, যুদ্ধ ৭১, ব্যাটল অব ৭১, টিম-৭১, লিবারেশন-৭১, মুক্তিযুদ্ধ-৭১, ১৯৭১ ইত্যাদি।

গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাসিভ স্টার স্টুডিও লিমিটেড তৈরি করছে যুদ্ধ-৭১ নামের একটি গেমস সিরিজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মাহাবুব আলম বলেন, ‘এই গেমসটির সিরিজ নির্মাণ শেষ হবে ২০২১ সালে।’ তার দাবি, যুদ্ধ-৭১ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গেমস প্রজেক্ট। ম্যাসিভ যুদ্ধ ৭১, মুক্তিযুদ্ধের ডিজিটাল রূপায়ন। এটা গেম নয়, জন্মকথা। যা ডেমো ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে। গেমার তথা পাঠকদের মতামতের ভিত্তিতে নির্মিত হবে ম্যাসিভ যুদ্ধ-৭১। ২০২১ সালে এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইতিহাস ভিত্তিক গেমস।

মাহাবুব আলম আরও বলেন, ‘১৯৭১কে নিয়ে কালোত্তীর্ণ কোনও কাজই হয়নি যেটা যুগ যুগ ধরে দেশে দেশে মানুষ দেখবে আর মহান মুক্তিযুদ্ধকে জানবে। ম্যাসিভ যুদ্ধ-৭১ সেরকম একটি প্রচেষ্টা।’

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেমস ‘হিরোস অব ৭১’ খুবই আলোচিত হয়েছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর এটি অবমুক্ত করা হয়। এটি তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল শিক্ষার্থী। গেমসটিতে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিরোধ ও গেরিলা হামলার পরিস্থিতি। এটি তৈরি করেছে পোর্টব্লিস গেমস নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

‘ব্যাটল অব ৭১’ নামের একটি গেমসও সম্প্রতি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউার গেমস ‘ব্যাটল অব ৭১’। এটি তৈরি করেছে গেমস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াসিইউ টেকনোলজি লিমিটেড। জানা গেছে, গেমসটি প্রথমে ডেস্কটপ সংস্করণে বাজারে ছাড়া হয়েছে। মোবাইল সংস্করণ শিগগিরই বাজারজাত করা হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেমস ও অ্যাপস বিষয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, অহংকার। মুক্তিযুদ্ধকে ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে এলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গেমস একটি বৃহৎ ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্রে কাজ করে অনেক দেশই উন্নতির শিখরে পৌঁছে গেছে। আমরাও যদি তরুণ প্রজন্মকে এই শিল্পে যথাযথভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারি, তাহলে গেমিং সেক্টরে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যত আরও উজ্জ্বল হবে।’