বিজয় দিবস পালনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারত যাচ্ছে প্রতিনিধি দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারত সরকারের আমন্ত্রণে বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১৪ ডিসেম্বর কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিনিধি দলে থাকবেন বাংলাদেশের ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা, ছয় জন সামরিক কর্মকর্তাসহ তাদের স্ত্রী ও সহযোগীরা। এছাড়া, প্রতিনিধিদলে থাকবেন তিনজন সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন আমলা এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা ফোর্ট উইলিয়ামসে বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এছাড়া প্রতিনিধি দলটি শান্তি নিকেতন সফর করবে এবং ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবে। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানও হয়, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ২৮ ভারতীয় যোদ্ধা এবং চারা সামরিক কর্মকর্তা তাদের স্ত্রী ও সহযোগীদের নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় আসবেন। অভিজ্ঞ এই যোদ্ধারা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর সার্ভিস প্রধান ও প্রধান স্টাফ অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের ওয়ার কোর্স ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা ক্লাব আয়োজিত ভিন্ন ভিন্ন অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ১৯৬৫ সাল ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিআরসি, পিভিএসএম, ভিএসএম জি এস সিহোতা। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি সেনা হেলিকপ্টারের ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং আকাশযুদ্ধে সমরাস্ত্র চালনা ও ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের নির্দেশে অনেক মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি সিলেটে হেলিবোর্ন অপারেশনেও প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তার হেলিকপ্টার শত্রুপক্ষের আক্রমণের শিকার হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন এবং নিরাপদে সফলভাবে অবতরণ করেন। সাহসের সঙ্গে এসব যুদ্ধ পরিচালনায় ভূমিকা রাখায় তাকে বীরচক্র সাহসিকতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

এছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর তরুণ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এয়ার কমোডর চন্দ্র মোহন সিংলা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একইভাবে আকাশপথে ব্যাপক যুদ্ধ করেন। তার সাহসী ভূমিকার জন্য তাকেও বীরচক্র প্রদান করা হয়। তিনি তার সমসাময়িক সহকর্মী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শামসুল আলম, স্কোয়াড্রন লিডার বদরুল আলম এবং ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণের সুযোগ পাবেন। যুদ্ধকালে তারা একত্রে শত্রুবাহিনীর লক্ষ্যভেদে অসংখ্যবার লড়াই করেছেন। এই অসম সাহসী বাংলাদেশি পাইলটরাও বীর উত্তম সাহসী পুরস্কার লাভ করেছেন।

একইভাবে বীর উত্তম ও বীর প্রতীক পদকপ্রাপ্ত কমোডর বিজয় কপিল এবং লেফটেন্যান্ট সুরেশ কুমার মিত্তালের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিখ্যাত অপারেশন জ্যাকপট কমোডর এডব্লিউ চৌধুরী। যারা পাকিস্তানি জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে সমুদ্রপথে আক্রমণ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ নৌ কমান্ডার দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এই দুজন কর্মকর্তাও মুক্তিযুদ্ধেকালে তাদের সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য বীরচক্র লাভ করেছেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় যোদ্ধাদের মধ্যে পারস্পরিক এই সফর বিনিময় ২০০৫ সালে শুরু হয় এবং এ পর্যন্ত ২৮০ জনেরও বেশি মুক্তিযোদ্ধা ও ১২৫ জন ভারতীয় যোদ্ধা কলকাতা এবং ঢাকায় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।