বাস্তবতা বনাম নাস্তিকতা

মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া:
অামরা মানুষেরা ‘’ অাশ্রাফুল মাখলুকাত’’ সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ জীব৷
অামাদের জন্য প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘’অাল-কুরঅান’’ এই গ্রন্থে তাওরাত,যাবুর,ইন্জিল নামক অাসমানী কিতাবের কথা বলা হয়েছে৷

যুগে যুগে বিজ্ঞানীদের অনেক ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে,বিজ্ঞানের যুক্তিযুক্ত যে ধারণাকে অাজ অামরা সত্য বলে জানি কালের বিবর্তনে সেই ধারণার কিছু কিছু অংশ (অথবা সম্পূর্ণ) অন্য অারেকজন বিজ্ঞানী হয়তোবা মিথ্যা প্রমাণ করে দিবেন,এটা সম্ভব৷

ধর্মীয় গ্রন্থের মাঝে একমাত্র ‘’অাল-কুরঅান’’ব্যতিত অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ বিকৃত ও পরিবর্তন করা হয়েছে৷

মহাগ্রন্থ ‘’অাল-কুরঅানের’’অনেক অনেক অলৌকিকতার মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক বিষয় হলো,মহান সৃষ্টিকর্তা এতে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এই গ্রন্থ বিকৃত অথবা পরিবর্তন করা অসম্ভব৷ এর একটি বাক্যের অনুরূপ বাক্য তৈরী করাও সম্ভব নয়৷

যুগে যুগে সারা বিশ্বের অনেক অারব/অনারব পন্ডিত,বুদ্ধিজীবি অারবি ভাষা ও ব্যাকরণের বিষয়ে যাদের অনেক জ্ঞান,ওনারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার পর,শত চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়েছেন৷

সৌদি অারবের একজন নামকরা অারবী পন্ডিত ‘’অাব্দুল ফাদি’’ব্যাকরণ গত ২০টিরও বেশি ভুল পবিত্র কুর-অানে অাছে বলে দাবি করেন৷

পরবর্তীতে দেখাগেলো,অারবী ভাষার ব্যাকরণের যে উঁচু মান বজায় রেখে পবিত্র কুর-অান গ্রন্থিত হয়েছে ওনার ভুলের যুক্তি কোন ভাবেই টিকেনা৷

পরিপূর্ণ জীবন বিধান মহাগ্রন্থ অাল-কুরঅানে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য সহ সমস্ত মহাজগতের পরিণতির বিষয়ে বলা হয়েছে৷

পৃথিবীতে অামরা সবাই পবিত্র কুর-অানের হুকুম সঠিক ভাবে মেনে চললে অামাদের এই বিশ্বে কোন অনিয়ম অরাজকতা থাকতোনা৷

যারা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবি করেন,অথবা যারা বলেন সৃষ্টিকর্তা থাকলে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার মানুষদের রক্ষা করছেনা কেন ?

ওনাদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে বলছি,অাপনারা অাজ যা দেখছেন তা দেখে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক৷

অাফগানিস্তান যুদ্ধের পূর্বেকার শান্তিপূর্ণ বিশ্বের অবস্থান অার বর্তমান অরাজক বিশ্বের অবস্থান অাকাশ পাতাল ফারাক৷

অামেরিকা অাফগানিস্তান,ইরাক,লিবিয়া ও সিরিয়ায় অাক্রমণ ও দখলদারিত্বের পূর্বে,সেখানে ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান৷

কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে বর্তমানে অাত্মঘাতী হামলা,দলে দলে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করা,ধর্মকে পুজি করে উগ্রবাদের সৃষ্টি নিত্যদিনের স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে৷

এই দৃশ্যে ইসলাম ধর্মকে দায়ি করা সঠিক নয়৷অনুরূপ ভারতের হিন্দুদের দ্বারা বাবরি মসজিদ ধ্বংসে হিন্দু ধর্মকে দায়ি করা ও সঠিক নয়,তেমনি ভাবে সঠিক নয় বার্মায় মুসলমান নির্যাতনে বৌদ্ধ ধর্মকে দায়ি করা৷ধর্মীয় মূল নীতি থেকে বিচ্যুতরাই নিজেদের স্বার্থে এ ধরনের কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছেন৷

সকল ধর্মেই শান্তির কথা বলা অাছে৷ অশান্তিসৃষ্টিকারীর দায়-দায়িত্ব ধর্মের উপর চাপিয়ে দিলে সঠিক হবেনা৷

সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীটাকে করেছেন পরীক্ষা ক্ষেত্র,মানুষের দ্বারা সৃষ্টিকৃত অরাজক অবস্থার দায়-দায়িত্ব সেই মানব জাতি ও গোষ্ঠিকেই নিতে হবে৷

অামরা সৃষ্টির সেরাজীবেরা নিজেরা নিজেদের অরাজক অবস্থার পরিবর্তন না করলে সৃষ্টিকর্তা সর্বসময় তা পরিবর্তন করে দিয়ে যাবেননা৷

নুহ(অাঃ)-এর সময় সৃষ্টিকর্তা সমস্ত পৃথিবীকে মহাপ্লাবন দ্ধারা তলিয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে এতো বড়ো প্লাবন অার হবেনা৷

ঐ সময় নুহ(অাঃ)-এর নৌকায় যারাছিলেন তারা সবাই ছিলেন ভালো মানুষ,ধীরে ধীরে সেই ভালো মানুষেরাই ধর্মীয় মূলনীতি ও সঠিক নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হতে হতে পূণরায় অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করলো৷

পরবর্তীতে মুসা(অাঃ)—এর সময় মুসা(অাঃ) ও ওনার অনুসারীরা নীল নদের মাঝ খানে তৈরী হওয়া রাস্তায় নদী পার হয়ে অাসলেন৷

ফিরাউন সহ সমস্ত খারাপ লোকগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মারা গেলেন৷

মুসা(অাঃ)-এর সাথে থাকা সমস্ত ভালো মানুষ থেকে অনেকে ধীরে ধীরে ধর্মীয় মূলনীতি ও সঠিক নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়ে পূণরায় খারাফ অবস্থার সৃষ্টি করলো,বেশীর ভাগ মানুষ জোর-জুলুম,অন্যায়-অত্যাচার,অশ্লীলতা ও পাপাচার সহ বর্তমানের এই অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করলো৷

অামাদেরকে ভালো ও মন্দের ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে৷

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মন্দের প্রসার বেশি হচ্ছে,বেশির ভাগ মানুষ উচ্চাকাঙ্খায় নিমজ্জিত,ফলশ্রুতিতে অবৈধ অর্থপ্রাপ্তির অাকাঙ্খাই মানুষকে অন্যায়-অবিচারে প্রলুব্ধ করছে৷

ইন্টারনেট প্রসারতার যুগে অশ্লীলতার সহজলভ্যতাতো অাছেই৷ এতে নৈতিক ও মানসিক ভাবে অধঃপতিত হচ্ছে মানুষ৷

পবিত্র গ্রন্থের পূর্বাভাস অনুযায়ী বর্তমান এই অবস্থার অারো অনেক বেশি অবনতি হতে হতে চরম অাকার ধারণ করার পর, ইমাম মেহেদী ও ঈসা(অাঃ)-এর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে পূণরায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করাবেন৷

এটাই হবে ভালো মানুষদের রক্ষায় সৃষ্টিকর্তার সর্বশেষ বড় ধরনের হস্তক্ষেপ৷

পবিত্র গ্রন্থের বক্তব্য অনুযায়ী কুর-অানের পর অার কোন অাসমানী কিতাব অাসবেনা এটা একটি চ্যালেন্জ্ঞ,‘’কুর-অান’’ নামক কিতাব যদি মানুষের দ্ধারা লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে তা হলে অাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এমন একটি গ্রন্থ তৈরী করা সম্ভব হচ্ছেনা কেনো?

অারেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ(সাল্লেল্লাহু অালাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর পর অার কোন নবী অাসবেনা৷

বর্তমান যুগে অনেক প্রপাগান্ডা হচ্ছে,অনেকে খোদা দাবি করেছেন নিজেকে,অাবার অনেকে নবী৷

কিন্তু অাসমানী কিতাব প্রাপ্ত নবীদের অাচার-অাচরণ,জীবন-যাপন ও অলৌকিকতার কিছুই তাদের মাঝে ছিলনা থাকবেওনা৷

সৃষ্টিকর্তা মহাজগতের সকল কিছুই মানুষের জন্য নিদর্শন ও একে পরীক্ষাক্ষেত্র বানিয়ে রেখেছেন,অামাদের সকল কর্মকান্ড তিনি প্রত্যক্ষ করছেন এবং সে অনুযায়ী প্রতিফল প্রদান করবেন৷

তিনি সর্ব সময় সর্বক্ষেত্রে নিজ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সকল কিছু পরিচালনা করলে ভালো ও মন্দ নির্ধারণের দায় ভার অামাদের উপর অর্পনে জটিলতা থাকতো৷

সৃষ্টিকর্তা পবিত্র গ্রন্থের মাধ্যমে ভালো ও মন্দের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন৷

অামাদের সিদ্ধান্ত ও জীবন যাপনের মাধ্যমে নিজেদের চুড়ান্ত গন্তব্য কি হবে তা নির্ধারণ অামরা নিজেরাই করে ফেলছি৷
এর জন্য কোন ভাবে অন্যকে দায়ী করা সম্ভব নয়৷

মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর চেয়ে প্রায় তিন গুন বড় অতএব ভালো ও মন্দ নির্ধারণ করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা অামাদেরকে প্রদান করেছেন৷

অামাদের কর্মফলই চুড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে দিবে অামাদের অনন্ত বাসস্থান জান্নাতে হবে নাকি জাহান্নামে৷

যিনি মনে করেন সৃষ্টিকর্তা বলতে কিছু নেই,তিনি কুর-অানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কুর-অানের কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে,অামাদেরকে ওনার ধ্যান-ধারনা গ্রহণ করা উচিত৷

অনুরূপ তিনি ব্যার্থ হলে পবিত্র গ্রন্থের দিক নির্দেশনায় নিজেকে ও অন্যকে ন্যায় পরায়ন ভাবে পরিচালনা করতে পারলেই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব৷

অন্যথায় পবিত্র গ্রন্থের ঘোষণা অনুযায়ী ইমাম মেহেদী ও ঈসা(অাঃ)-এর পর অারকোন প্রতিনিধি সৃষ্টিকর্তা পাঠাবেন না৷
মানুষের অধঃপতন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে সৃষ্টিকর্তার নাম নেওয়ার জন্য যখন একজন মানবও থাকবেনা তখনই কেয়ামতের অাবির্ভাবের মাধ্যমে সকল কিছু ধ্বংস করা হবে৷

অামাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রযুক্তি ও সম্পদের সমাপ্তি ঘটবে৷

বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেছেন মহাজগত শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যস্ত টিকবে৷

অামরা কিন্তু অামাদের উত্তরসূরীদের জন্যেই সবকিছু করি,
অাসুন এখনই অামরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরীতে মনোযোগী হই৷

******************************************************************************************************************

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।আমাদের রামু -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য আমাদের রামু কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।