পেকুয়ায় কলেজ শিক্ষকদের উপর হামলার ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদন হিমঘরে; প্রকাশ্যে ঘুরছে জড়িতরা

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:
পেকুয়া শহিদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের তিন শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি সংশ্লিষ্ট কমিটি। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে গঠিত কমিটির সাত কার্যদিবসের মধ্যে ওই প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে পেরিয়েছে একমাসেরও বেশি সময়। এতে, সুষ্ঠ বিচার প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়ে ভূগছেন শিক্ষকরা।

কলেজ সুত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর কলেজের ১০-১৫ জন উছৃংখল শিক্ষার্থী দুই শিক্ষক ও এক প্রদর্শককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এসময় কলেজের অফিস এবং ছাত্রাবাসের দুটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহত শিক্ষকেরা হলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ বশির ও রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হক। লাঠির আঘাতে শিক্ষক আলমের হাত ভেঙে যায় ও বাকি দু’জন মাথায় আঘাত পায়।

এদিকে ঘটনার পরদিনই হামলায় অভিযুক্ত ৯ ছাত্র- সালাহউদ্দিন, মিনার হোসেন, ইব্রাহীম খলিল খোকন, রেজাউল করিম, খোরশেদ আলম, আব্দুর রহমান জয়, আরিফুল ইসলাম, শাহাদাত হোছাইন ও জয়নাল আবদীনকে কলেজ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও কলেজ অধ্যক্ষ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন তাদের বিরুদ্ধে। যার নং-০৮ (১১/১৬ইং)।

হামলায় আহত শিক্ষক এনামুল হক বলেন, আমাদের উপর হামলায় জড়িত ছাত্রদের আইনের আওতায় না এনে উল্টো পরীক্ষায় বসানো হয়েছিল তখন। কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ঘটনার তিনদিন পর মামলা নেয় পেকুয়া থানা পুলিশ।

অপর শিক্ষক মোহাম্মদ বশির বলেন, জড়িত ছাত্রদের কলেজ থেকে বহিষ্কার ও থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যত পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। বরং তারা এখন বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে কলেজ ক্যাম্পাসে। তাই আমরা এক প্রকার ভীতিতেই আছি।

পেকুয়া কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান আমাদের রামু কে বলেন, মামলার আসামী ছাত্ররা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা সত্যিই উদ্বেগজনক। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেননি বা সময়ের আবেদনও করেনি।

এব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজুর রহমান আমাদের রামু কে বলেন, প্রতিবেদন তৈরি সময়সাপেক্ষ ছিল। আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে দিব। এরমধ্যে সময়ের আবেদন করেছেন কিনা জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এদিকে মামলার অগ্রগতি সর্ম্পকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার আমাদের রামু কে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। সেটা পেলেই আমরা অগ্রসর হব। আর জড়িতদের প্রকাশ্যে ঘুরার ব্যাপারে আমরা অবগত নই। তারপরেও শিক্ষকরা জানালে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।