গণিত পরীক্ষা দিতে পারেনি ৪০ হাজার শিক্ষার্থী

সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী শনিবার বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও শুধু নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় এর ব্যতিক্রম ঘটেছে।

শনিবার ছিল গণিত পরীক্ষা, কিন্তু প্রশ্নপত্র তৈরি না হওয়ায় জেলার সদর উপজেলা প্রাথমিকের ৪০ হাজার শিক্ষার্থী গণিত পরীক্ষা দিতে পারেনি।খবর রাইজিংবিডির।

এ নিয়ে শিক্ষকরা পড়েছেন বিপাকে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রথম শ্রেণি হতে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষা হবে না জানতে পেরে ফিরে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ জেলার অপর ৫ উপজেলা ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ ও সৈয়দপুরে যথানিয়মে পরীক্ষা শুরু হলেও নীলফামারী সদরের ২০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ হাজার শিক্ষার্থী শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রুটিন পরীক্ষা শেষ হলে নতুন করে তারিখ দিয়ে গণিত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, তারা গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রশ্নপত্র আনতে গেলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিকেলেও প্রশ্ন দিতে না পারায় শনিবারের পরীক্ষাটি সবার শেষে গ্রহণ করা হবে বলে শিক্ষকদের জানিয়ে দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

নীলফামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক ভুষণ চক্রবর্তী বলেন, ‘একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কোন পরীক্ষা কখন হবে সেটি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বার্ষিক পরীক্ষাও সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হওয়ার কথা। কিন্তু প্রশ্নপত্র তৈরি না হওয়ায় যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এক মাস আগে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং যথাসময়ে পরীক্ষা সম্পন্নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার কথা। সে হিসেবে শনিবার থেকেই গোটা জেলায় প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার শিক্ষা বিষয়ে এক কর্মশালায় ব্যস্ত থাকায় প্রশ্নপত্রের বিষয়টি সমাধান করতে পারিনি। এ ছাড়া ছাপাখানা (প্রেস) প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে পারেনি। যে কারণে শনিবারের গণিত পরীক্ষা সব শেষে গ্রহণ করা হবে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বণিক জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।