কারা নির্যাতিত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আলম সওদাগরের দাফন সম্পন্ন, শোক প্রকাশ

খালেদ শহীদ:
একাত্তরের কারা নির্যাতিত প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আলম সওদাগরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাযা শেষে রামু অফিসেরচরস্থ এমদাদিয়া কাছেমুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

নামাজে জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শোক প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, রামু কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল হক, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক, এড. নুরুল ইসলাম, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফরন আলম চৌধুরী, রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা বখতেয়ার আহমদ ও পরিবারের পক্ষে মরহুমের দ্বিতীয় ছেলে মো. নুরুল আলম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

শোকসমাবেশ সঞ্চালনা করেন, রামু-উখিয়া উপজেলার আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘের সদস্য আ হ ম নূরুল কবির হিলালী। নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন, আবদুল আলী সিকদার বংশের ফতেহ আলী মাতবর প্রজন্ম কমিটির সদস্য মৌলানা আবদু শুক্কুর।

রামু-উখিয়া উপজেলার প্রাচীন আবদুল আলী সিকদার বংশের ফতেহ আলী মাতবর প্রজন্ম কমিটির উপদেষ্টা সদস্য ও রামু ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্টাতা সদস্য রামুর মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক একাত্তরের কারা নির্যাতিত আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আলম সওদাগর শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮১ বছর। তিনি স্ত্রী, ছয় ছেলে, ছয় মেয়ে, নাতি-নাতনী, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আলম সওদাগর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে, পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিক কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালেই চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যার পরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক, সামাজিক অঙ্গন ও আবদুল আলী সিকদার বংশসহ এলাকার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

রামু-উখিয়ার প্রাচীন আবদুল আলী সিকদারের বংশের দশম পুরুষ সৈয়দ আলম সওদাগর রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসেরচর এলাকার মরহুম হোছন আলী সিকদারের বড় ছেলে। মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে রামু থানা আওয়ামীলীগের নেতা সৈয়দ আলম সওদাগর পাক-হানাদার বাহিনী কর্তৃক কারা নির্যাতিত হন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বরণের পর বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম জেয়াফত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় রামুতে। জাতির জনক স্মরণে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যাললয় মাঠে এ জিয়াফত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক সৈয়দ আলম সওদাগর।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, রামু কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল হক, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, রামু-উখিয়ার প্রাচীন জনগোষ্ঠীর সংগঠন আবদুল আলী সিকদার বংশ সংহতি সংঘের সভাপতি নুরুল ইসলাম চৌধূরী, সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদ নীতিশ বড়ুয়া, রামু কলেজ, রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ।