টেকনাফে চাঁদা না পেয়ে আ’লীগ নেতাসহ ৩ জনের উপর অমানুষিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফে চাঁদা না পেয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের অমানুষিক নির্যাতনে আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালামের (৩৬) অবস্থা আশংকাজনক। তাকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আবদুচ ছালামের বেশকিছু জমি-জমা রয়েছে কচুবনিয়া এলাকায়। পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালীদের নজর পড়ে উক্ত জমির উপর। প্রভাবশালীরা দুবাই প্রবাসীর এই জমির কেয়ারটেকার ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে মুঠোফোনে প্রায় সময় প্রবাসীর কাছ থেকে জন্য মোটা অংকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। কিন্তু দাবীকৃত মোটা অংকের টাকা না পেয়ে প্রভাবশালীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ১১ টার দিকে ঘটে নারকীয় ঘটনা। এসময় কচুবনিয়া এলাকার মৃত ছৈয়দুর রহমানের ছেলে আবদুল আমীন (৪২)সহ সাঙ্গ-পাঙ্গরা আবুল কালামকে কথা আছে বলে ভদ্রভাবে তাদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আবুল কালামের সাথে যান মোজাহের মিয়ার ছেলে ছৈয়দ হোছন (৩০) ও মৃত মখলেছুর রহমানের ছেলে আবদুচ ছালাম কালু (৩৭)। তাদের প্রথমে ভাত খাওয়ায়ে আপ্যায়ণ করা হয়।

আপ্যায়নের পরেই নাটকীয়ভাবে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতনের পালা। হত্যার উদ্দেশ্যে সবাইকে রশি দিয়ে বেধে অমানুষিক নির্যানের এক পর্যায়ে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন ছৈয়দ হোছন ও আবদুচ ছালাম কালু। পরে আবুল কালামকে রশি দিয়ে বেধে পালাক্রমে মারধর শুরু করে আবদুল আমিন, তার ছেলে মো. আলমগীর (২০), মৃত মতিউর রহমানের ছেলে ইমাম হোসেন (৪০), এখলাছ মিয়ার ছেলে মো. হাসিম (৩৬), নুরুল ইসলামের ছেলে মো. রুবেল (২২), এখলাছ মিয়ার ছেলে আবদুল গফুর (২৫), ছোট হাবিরপাড়ার মৃত ইলিয়াছের ছেলে শামসুল আলম (৩০), মৃত দিল মোহাম্মদের ছেলে কাসিম (২০), আবদুল আমীনের স্ত্রী রকম বাহার (৪০), আবদুল আমীনের মেয়ে তৈয়বা খাতুন (২০)সহ আরো কয়েকজন। মারধরের সময় দুর্বৃত্তরা দম্বোক্তি করে বলে উঠে, ‘তুর কোম্পানী দুবাই থাকে, বেশী টিয়ার মালিক। এড়ে বউত্ জাগা-জমি আছে। আঁরারে টিয়া দিত হ’ ।

এদিকে পালিয়ে যাওয়া দুই জনের দেওয়া খবরে জিম্মী আবুল কালামকে উদ্ধার করতে ছুটে আসে পার্শ্ববর্তী লোকজন। তারা তাকে উলঙ্গ ও মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধারের পর টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অভিযোগ উঠেছে, উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের ব্যবহার করে দুবাই প্রবাসী আবদু ছালামের জমি জবর দখলের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আহমদের ছেলে আবদুর রহমান (৩৫)সহ কিছু প্রভাবশালী। তাদের সাথে যোগসাজশ রয়েছে ইউপি নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষের। পরাজিত শক্তি বর্তমানে প্রতিহিংসামূলক দখল-বেদলের কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে। এই দাবি একাধিক ভূক্তভোগী মানুষের।

এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মজিদ বলেন, উল্লেখিত ঘটনার কোন এজাহার অথবা অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।