সাবমেরিন নৌঘাঁটি স্থাপন: পেকুয়ায় উচ্ছেদ আতংকে শতাধিক জেলে পরিবার

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:
‘অ্যারার দুক্কু হন কেয়া ন বোজে! তাইবর হন জাগা নাইদে এতাল্লাই বেড়িবাঁধ’র হান্ডাত ঘর বাইনদি। ইয়ান যদি ছারি দেয়া পরে অ্যারা হডে থাইক্কুম? হডে যাইয়ুম’ ?

(আমাদের দুঃখ কেউ বুঝেনা। নিজের জমি না থাকায় বেড়িবাঁধের পাশে ঘর বেধেছি। এটি যদি ছেড়ে দিতে হয়, আমরা কোথায় থাকবো ? কোথায় যাব ?)

এভাবেই হতাশার কথাগুলো বলছিলেন পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বিন্দারপাড়া এলাকার আবদুল আজিজের পুত্র আবছার (৬৫)। এই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন বেড়িবাঁধের পাশ্ববর্তী জমিতে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শতাধিক জেলে পরিবারের সহস্রাধিক মানুষের বসবাস। ছিন্নমূল জেলে পরিবারগুলো যুগ-যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ জায়গায়।

কিন্তু ওই সরকারি এ জায়গাসহ পার্শ্ববর্তী আরো ৪২২একর জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন নৌঘাটি স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে, উচ্ছেদ হতে যাচ্ছে ওই জেলে পরিবার গুলো। ইতিমধ্যে তাদেরকে ওই জমি ছেড়ে দিতে মৌখিকভাবে জানিয়েছে নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সর্বপশ্চিমে সাগরঘেষা বেড়িবাঁধের ভিতরের অংশে এসব জেলে পরিবারের বসবাস। যাদের অধিকাংশই সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ওই এলাকার বাসিন্দা মতলব ও কামাল অশ্রুশিক্ত চোখে এই প্রতিবেদককে বলেন, ৪০বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। এখান থেকে অন্যত্র গিয়ে থাকার মত জায়গা-জমি আমাদের নেই। তাই, মাননীয় জেলা প্রশাসক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন “আমাদের পূর্ণবাসন করা হোক”।

মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমিআমাদের রামু কে বলেন, ‘আমার জানা মতে খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে সাবমেরিন নৌঘাঁটি স্থাপন কাজ। ইতিমধ্যে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ ওই জেলে পরিবার গুলোকে তাদের দখলে থাকা খাস জমি ছেড়ে দিতে বলেছেন। কিন্তু ছিন্নমূল মানুষ গুলোকে উচ্ছেদের পূর্বে তাদের পূনর্বাসন করা উচিত। নয়তো গৃহহীন হয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হতে পারে’।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদিন আমাদের রামু কে বলেন, এব্যাপারে আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দেখবো, তাদের জন্য কিছু করা যায় কিনা।