বাঁকখালীতে নৌকাবাইচ, মূখরিত দুপাড়

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বাঁকখালী নদীর তেমুহনী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে রামু কেন্দ্রীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ২০১৬। চারদিন ব্যাপি এ প্রতিযোগিতার শেষ দিন ছিলো বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর)। এ দিন বেলা ১২টা থেকে নদীর দুপাড়ে মানুষের ঢল নামে। মূখরিত হয়ে উঠে পরিবেশ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকাবাইচ লোকায়ত গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলির মধ্যে অন্যতম নৌকাবাইচ প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো। রামুতে নৌকাবাইচ প্রতি বছরই হয়।

প্রতিযোগিতার শেষ দিনে হৈয়া হো হৈয়ো সুরে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো বাঁকখালী নদীর আশপাশ এলাকা। রঙ-বেরঙের বাহারি নৌকা, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক, নাচগান আর মাঝি-মাল্লার হই-হুল্লোড়ে উৎসবমুখর ছিলো নদীর পাড়। আর নৌকা বাইচ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসেছিলেন নৌকা বাইচ উপভোগ করতে। দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার তেমুহনী পয়েন্ট থেকে আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জনতার অবস্থান স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বাঙালি জাতির গৌরবের ঐতিহ্যকে।
সবার কন্ঠে শাহ আব্দুল করিমের লেখা জনপ্রিয় লোকগান ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়/ ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূর পঙ্খীর নায়’।

boat-race-2-copy

ফাইনাল খেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হন পশ্চিম নোনাছড়ি ভাই ভাই কমিটি। নোনাছড়ি নতুন বাহিনী তালেব মেম্বার ২য় ও উত্তর ফতেখাঁরকুল মায়ের দোয়া ৩য় স্থান অধিকার করেছেন। ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে চারদিন ব্যাপি এ প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ২৬টি নৌ দল অংশ গ্রহণ করেন এবং ফাইনাল খেলায় ২৬ পাড়ি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদেরকে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সরওয়ার কমল এমপি বলেন, সাহিত্য, সংস্কতি ঐতিহ্যে ভরপুর পর্যটন শহর রামু উপজেলা। এখানে রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্যবাহি নৌকা বাইচ খেলা। শত বছর আগে রামু’র বাকখাঁলী নদীতে নৌকা বাইচ খেলা শুরু হয়েছিল। কালক্রমে এ খেলা আমাদের ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আজকের ফাইনাল খেলায় লাখো মানুষের ঢল দেখে আমি অভিভুত হয়েছি।

boat-race-3-copy

রামু কেন্দ্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলমের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এড. একে আহমদ হোছাইন, রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলি, রামু থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর, কাউয়ারখোঁপ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, জেলা যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু, গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোঃ ইসমাঈল নোমান, কাউয়ারখোঁপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, রশিদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, রাজারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, জোয়ারিয়ানালা চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমদ প্রিন্স, ফতেখাঁরকুল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রুস্তুম আলী চৌধুরী প্রমূখ।