গাজা উপত্যকা থেকে ‘সংহতির সুর’ ভেসে এলো আলেপ্পো-আরাকানে

যুদ্ধ-সহিংসতা-অবরোধে জর্জরিত এক বিপন্ন মানুষের আবাসস্থল থেকেই অন্য বিপন্ন মানুষদের জন্য ভেসে এলো সংহতির সুর। আলেপ্পোবাসী আর আরাকানের মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপন্ন মানুষদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উন্মুক্ত কারাগার হিসেবে পরিচিতি গাজা উপত্যকা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এই খবর জানিয়েছে।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, সিরীয় যুদ্ধের ভয়াবহতায় অবরুদ্ধ আলেপ্পোবাসী আর মিয়ানমারের জাতিগত নিপীড়নের শিকার হওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সংহতি সমাবেশ করেছে গাজা উপত্যকার মানুষেরা। প্যালেস্টাইনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস-এর ছাত্র সংগঠন ইসলামিক ব্লক ওই সংহতি সমাবেশের ডাক দেয়।
মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ওই সংহতি সমাবেশে মিয়ানমার এবং আলেপ্পোর পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এবং গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে সংহতি প্রকাশ করা হয়। ইসলামিক ব্লকের একজন ছাত্রনেতা নিদাল ইদ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘সমস্ত নৃশংস ক্ষমতাওয়ালা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলেপ্পো জ্বলছে, তার ধ্বংসস্তূপের তলদেশে মানবতার কবর রচিত হয়েছে। বিশ্ব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে’।
সমাবেশ থেকে হামাসের ছাত্র সংগঠন ইসলামিক ব্লক এক্ষুণি রক্তপাত বন্ধ করে আলেপ্পোবাসী আর আরাকানের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানায়। আরব-সহ অন্যান্য মুসলিম নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে এখনও আড়াই থেকে তিন লাখ মানুষ আটকা পড়ে আছেন, যাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সহযোগিতারও তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। বিমান হামলায় প্রধান হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি বলছে, সিরীয় যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি হবে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে মার্কিন-রুশ ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলেও মনে করছেন অনেকে।

এদিকে এ বছর অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই শুরু হয় সেনাবাহিনীর দমন প্রক্রিয়া। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ইসলামি চরমপন্থা দমনে কাজ করছেন বলে দাবি করছেন তারা। আর তা এমন কঠোর প্রক্রিয়ায় চালানো হচ্ছে যে সেখানে সংবাদমাধ্যমকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

জাতিসংঘ এরইমধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। তাদের বিরেুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ তোলা হয় দুই দফায়। সংঘর্ষে রাখাইন রাজ্যের মৃতের সংখ্যা ৮৬ জন বলে জানিয়েছে তারা। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত ঘরহারা হয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে তাদের।