দেশে প্রান্তিক মানুষ ৫৭ লাখ: পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশে আয়ের দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৫৭ লাখ মানুষ জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বেদে, তাঁতী, কামার, কুমার ও জেলে সম্প্রদায়েই হতদরিদ্র মানুষের সংখ‌্যা সবচেয়ে বেশি।খবর বিডিনিউজের।

এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনতে সরকার বিশেষ প্রকল্প নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তালিকা করে আয় বাড়ানোর কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার বিআইডিএসের আয়োজনে ‘দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও মানব সম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে এখন ৫৭ লাখ মানুষ আছে যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তাদেরকে আমরা অর্থনীতির মুলস্রোতে আনতে না পারলে আমাদের অর্থনীতি অর্থবহ ও টেকসই হবে না।”

এ বিষয়ে ‘দুই-তিন মাস আগে’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

“প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, আমরা একেবারে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এসব পিছিয়ে পড়া মানুষদের চিহ্নিত করে একসাথে তাদের সবার জন্য কাজ করব।”

এর আগে গত অগাস্টেও পিছিয়ে থাকা নয় পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসতে দুই-এক বছরের মধ‌্যে প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছিলেন মুস্তফা কামাল।

এই নয় জনগোষ্ঠী হচ্ছে- বেদে, কোমার, জেলে, কামার, স্বর্ণকার, বাঁশ ও বেত প্রস্তুতকারক, কাঠ মিস্ত্রী, মিষ্টি প্রস্তুতকারক ও নাপিত।

>> দেশে বেদে পরিবার রয়েছে ১৫ হাজার ২৬২টি, এসব পরিবারের জনসংখ্যা ৬৯ হাজার ২১ জন।

>> কুমার পরিবার রয়েছে ৩১ হাজার ৭৪২টি; জনসংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৮ জন।

>> জেলে পরিবার রয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬২টি; জনসংখ্যা ৩১ লাখ ৯ হাজার ৯৩৩ জন।

>> কামার পরিবার রয়েছে ৩২ হাজার ৪৫৩টি; জনসংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯৩ জন।

>> স্বর্ণকার পরিবার রয়েছে ৪৪ হাজার ৮৮৭টি; জনসংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬২ জন।

>> বাঁশ ও বেত প্রস্তুতকারক রয়েছে ৮১ হাজার ৫৯৯টি; জনসংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯২ জন।

>> কাঠ মিস্ত্রি পরিবার রয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭টি; জনসংখ্যা ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০১ জন।

>> আর ৫৩ হাজার ৬৯৭টি মিষ্টি প্রস্তুতকারক পরিবারের জনসংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার ৭০০ জন

>> ৮১ হাজার ২২১টি নাপিত পরিবারের জনসংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৮৪ জন।

তথ‌্য: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

বিআইডিএসের সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দেশে মাছ ও ধান উৎপাদনসহ সব ধরনের কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত সহযোগিতা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ কম ব্যয়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দিয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সফলতা পেয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক সাফল‌্য এসেছে।

“কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি অর্জন এত সহজ হবে না। বিশেষ করে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন করতে হলে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে।”

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “ঢাকা শহর আমাদের মোট দেশজ আয়ের এক তৃতীয়াংশের যোগান দেওয়ার পরও এটি এখনো বাসযোগ্য শহর হয়ে ওঠেনি।… এখানে এখনো এক শ্রেণির মানুষ যে বেতনে চাকরি করে, তা দিয়ে জীবন চলে না।”

ঢাকাকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এই অর্থনীতিবিদ।

ঢাকার লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস মহাপরিচালক খান আহমেদ সৈয়দ মুরশিদ।