মিয়ানমার বিষয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি

রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত সহিংস ঘটনার কারণে মিয়ানমার বিষয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার বিষয়ে মিয়ানমারের আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশ এখন সাড়া দিচ্ছে না।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে বাংলাদেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় আছে। এখন মিয়ানমারের বৈঠক করার আগ্রহের কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখানো যে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এ ফাঁদে পা দিতে চায় না। সে কারণে আমরা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের তারিখ যেটি গত মাসের ২২-২৩ তারিখ মিয়ানমারে হওয়ার কথা ছিল, সেটি পিছিয়ে দিয়েছি। অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বৈঠক করতেও সরকার আগ্রহী নয়।’

অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুলিশ চৌকিতে আক্রমণে ১২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। এরপরে মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর আক্রমণে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত এবং অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গা গৃহহারা হয়েছেন।

সশস্ত্র বাহিনীর এ অত্যাচারের কারণে হাজার-হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। মানবিক কারণে অল্প কিছু মিয়ানমার নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত মাসের ৩-৪ তারিখে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে মিয়ানমারের প্রস্তুতি ছিল না এবং সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে তারা শুধু বৈঠকের জন্য বৈঠক করতে আগ্রহী এবং তারা এ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক নয়। আমরা দুই দেশের সম্পর্ককে বিভিন্নমুখি করতে চাই এবং তার জন্য দুই পক্ষের আন্তরিকতার প্রয়োজন আছে।’

উদাহরণ হিসাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ওই কর্মকর্তা বলেন,‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে মতদ্বৈততা থাকলেও সম্পর্কের বহুমুখিতার কারণে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের পারদ ওঠানামা করে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় না।’

আঞ্চলিক উদ্যোগ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মিয়ানমার ইস্যুতে মালয়েশিয়া অত্যন্ত সোচ্চার এবং থাইল্যান্ডও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়। মালয়েশিয়াতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে যেখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়।’

সম্প্রতি বহু রোহিঙ্গা অবৈধভাবে প্রবেশ করে থাইল্যান্ডকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে ১০০-এরও কম রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়েছে মিয়ানমার।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় কিনা সেটি বিবেচনা করছে সরকার। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড দুই দেশই আসিয়ানের সদস্য এবং এক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।