ফের ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের আশংকা: রামুতে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বালি উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়ায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিপুল পরিমান বালি উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনের শিকার ওই এলাকার জনগনের মধ্যে আবারো নদী ভাঙ্গন আতংক দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী লোকজন এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজারকুল সিকদারপাড়া ও চাইন্দা রাজারকুল সড়ক রক্ষার জন্য সিকদারপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় কয়েক বছর পূর্বে প্রায় ১০ কোটি টাকার সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি কতিপয় অসাধু বালি ব্যক্তি সরকারি অনুমতি না নিয়েই ভাঙ্গন কবলিত এ এলাকায় বালি উত্তোলন শুরু করে। এর ফলে রাজারকুল-চেইন্দা সড়ক, আশপাশের বসতি ও পল্লী বিদ্যুতের খুটি ফের নদী ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

গত রবিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে নদীর চর বালি উত্তোলন করে পিকআপ (মিনিট্রাক) দিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করতে দেখা গেছে। এসময় পিকআপ গাড়ির শফিক ও কয়েকজন শ্রমিক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তারা জানান, স্থানীয় মাশেক ও জমির নামের দুই ব্যক্তির নির্দেশে তারা বালি উত্তোলন করছেন। বালি উত্তোলনের জন্য ওই ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বলেও জানান গাড়ির চালক শফিক।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাং আবদুল হক, শাহ আলম ও সরওয়ার কামাল জানিয়েছেন, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এভাবে নির্বিচারে বালি ও মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অচিরেই এ এলাকায় নদী ভাঙ্গন ফের ভয়াবহ আকার ধারন করবে।

bali-copyতারা আরো জানান, রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদার পাড়া সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারন করে। এমনকি অনেক গ্রামের মসজিদ, মাদরাসা, চলাচলের সড়ক, বসত বাড়ি ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওইসব এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক স্থাপন করে।

এলাকাবাসীর দাবি মাটি বিক্রি করে হয়তো সরকার কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব পাবে। কিন্তু নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যয় হতে পারে কোটি কোটি টাকা। এ জন্য আগাম ব্যবস্থা হিসেবে বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধে যেন প্রশাসন অবিলম্বে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাজাহান আলি আমাদের রামু কে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বালি উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে জড়িতদের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরপরও বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।