চকরিয়া চরনদ্বীপে ২টি অস্ত্রের কারখানার সন্ধান: বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গুলিসহ ৬ কারিগর আটক

এম.এ আজিজ রাসেল:
চকরিয়ার উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের চরনদ্বীপ দোলখালীপাড়ায় ২টি অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। সেখান থেকে ২০টি বিভিন্ন ধরণের সক্রিয় অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গুলিসহ ৬ জন অস্ত্র কারিগরকে আটক করেছে র‌্যাব।

৪ ডিসেম্বর ভোর ৪ টায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের মেজর মাহমুদ হাসান তারিক, সিনিয়র এএসপি শাহেদা সুলতানা ও এএসপি মোহসিনুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

এ উপলক্ষে রোববার বিকাল ৪ টায় প্রেস ব্রিফিং করা হয়। এতে কোম্পানী কমান্ডার মেজর মাহমুদ হাসান তারিক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় ব্যাপক কর্মতৎপরতা শুরু করে। দীর্ঘদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষন ও গোয়েন্দা তৎপরতায় অস্ত্র কারখানা দুটিতে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কারিগররা পালানোর চেষ্টা করলে কৌশলে ঘিরে ফেলা হয়।

এসময় কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং এলাকার নুর মোহাম্মদ প্রকাশ ধলা মিয়া মাঝির পুত্র আবদুল মান্নান (৩৫), আইয়ুব খান (২৭), চকরিয়ার ইতমনি এলাকার মৃত আব্দুল বাসদ প্রকাশ বাসুর পুত্র নুরুল আলম (৫০), কুতুবদিয়া কাজির পাড়ার আমির হোসেনের পুত্র মহিউদ্দিন প্রকাশ মহিন মিয়া (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চিরিংগা চরণদ্বীপ দোলখালী পাড়ার নুরুল ইসলামে স্ত্রী জোনুয়ারা বেগম (৩৮) ও চাইরা খালী ফাশিয়া খালীর ইউপির মৃত ইদ্রিস আহমদের পুত্র নুরুল্লাহ (৪৫) কে আটক করা হয়। পরে তল্লাশী চালিয়ে ৮টি এসবিবিএল, ১টি ডিবিবিএল , ২টি দেশীয় রাইফেল, ১টি দেশীয় রাইফেল, ৮টি ওয়ান শুটারগান, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৪৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, ০৪ রাউন্ড দেশীয় রাইফেলের গুলি, ৩টি পোচ, ২টি পোচ বেল্ট, অস্ত্র তৈরীর মেশিন ও যন্ত্রাংশ ২টি লেথ মেশিন, ১টি হাত ড্রিল, ২টি হেক্সা মেশিন, হেক্সাব্লেড, ৩টি ট্রিগার গার্ড, ১টি বাট, ৪টি পাইপ, ৩টি হাতুড়ি, স্ক্রু ড্রাইভার, রেত, কাটিং মেশিন, বিশেষ ধরনের প্লাস, ৪টি পাইফ, ৩টি ট্রিগার গার্ড, ১টি বাট, ৩টি হাতুড়ি, বাটাল, ও ¯িপ্রং, নাট/ভোল্ট উদ্ধার করা হয়। আটকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মেজর মাহমুদ হাসান তারিক আরো জানান, কতিপয় সংঘবদ্ধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও অস্ত্র তৈরীর কারিগরসহ দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা ও ডাকাতদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে। এসব অস্ত্র দিয়ে চকরিয়া ও পাশ্ববর্তী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, মুক্তিপণ, অপহরন ও ডাকাতিসহ বিভিন জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করছে।

তিনি জানান, দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাবের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ও জঙ্গী বিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭ চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৫৬ টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১টি একে-২২ (এসএমজি), ৩৬টি বিদেশী পিস্তল, ৩টি দেশী পিস্তল, ২টি বিদেশী রিভলবার, ৩৮টি এসবিবিএল, ২টি ডিবিবিএল, ২টি শর্টগান, ওয়ান ৬৮টি শুটারগান, ১টি কাটা রাইফেল, ২টি দেশীয় রাইফেল ও ১টি দেশীয় রাইফেলসহ মোট ৪২টি ম্যাগাজিন, ৩,৭২৭ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি/কার্তুজ, ৮৪ রাউন্ড খালি খোসা, ১৫টি ককটেল এবং ১৯টি রকেট ফ্লেয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।