রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার দাবিতে উত্তাল মালয়েশিয়া, ১০ হাজার মানুষের মানবতার মিছিল

মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে মালয়েশিয়ায় সমাবেশ করেছেন হাজার হাজর মানুষ। বিপন্ন মানবতার পক্ষে মানুষের এই মিছিলে সামিল হয়েছেন রাজনীতিকরাও। রাজনৈতিক বিভাজন আর বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে তারা বিপন্ন মানবতার সুরক্ষা দাবি করেছেন। রবিবার (৮ নভেম্বর) সকালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষের এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ এরইমধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল করার অভিযোগ এনেছে। তাদের বিরেুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডেরও অভিযোগ তোলা হয়। এবারের সংঘর্ষে রাখাইন রাজ্যের মৃতের সংখ্যা ৮৬ জন বলে জানিয়েছে তারা। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এখন পর্যন্ত ঘরহারা হয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে তাদের।

বিপন্ন এই রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার দাবিতেই মালয়েশিয়ার টিটিওয়াংসা স্টেডিয়ামে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজিত হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘স্টপ জেনোসাইড’ লেখা প্লেকার্ড বহন করেন। অনেকের ‘সেভ রোহিঙ্গা’ লেখা ব্যান্ড বেঁধে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। সমাবেশে মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এবং বিরোধী দল পার্টি ইসলাম সেমালয়েশিয়া (পিএএস)-এর প্রেসিডেন্ট আবদুল হাদি আওয়াংসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা যোগ দিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন কয়েক হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীও।

সমাবেশে নাজিব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই তাদের (রোহিঙ্গা) রক্ষা করতে হবে। কেবল এজন্য নয় যে, তারা একই ধর্মে বিশ্বাসী। বরং এজন্য যে, তারা মানুষ। তাদের জীবনেরও মূল্য রয়েছে।’ তবে ধর্মীঁয় প্রশ্নেও রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন নাজিব। সমাবেশে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোকেও সোচার হওয়ার আহ্বান জানাবেন। নাজিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু হলো ইসলামের অপমান। আমাদের ধৈর্য্যকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’

বিরোধী দল পিএএস নেতা হাদিসহ অনেক নেতা-কর্মীরা ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং রোহিঙ্গা নিপীড়নের সমালোচনা করেছেন। মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ রেজিস্ট্রেশন করা প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। ওই শরণার্থীদের অনেকেই বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

সমাবেশে যোগ দেওয়া রোহিঙ্গা সোসাইটি ইন মালয়েশিয়া-র প্রেসিডেন্ট ফয়সাল ইসলাম মুহাম্মদ কাসিম রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মালয়েশিয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মালয়েশীয় সরকার মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের বার্তা পৌঁছে দিক। এতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়বে।’

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপন্নতায় যে দেশগুলো সবচেয়ে সোচ্চার হয়েছে মালয়েশিয়া তাদের অন্যতম। মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য রোহিঙ্গা সোসাইটি ইন মালয়েশিয়া নামের এক সোসাইটি গঠন করেছে মালয়েশিয়া সরকার। আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমার সরকারের কাছে মালয়েশিয়া উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারে সে দেশের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির একজন মন্ত্রী মিয়ানমারের আসিয়ান সদস্যপদ বাতিলেরও আবেদন জানিয়েছেন।

সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস, নিউ স্ট্রেইট টামস, রয়টার্স, গার্ডিয়ান।