.দৈনিক হিমছড়ি পরিবারের মিলনমেলা: প্রবাল দ্বীপে সুখকর বেড়ানো এক অন্য রকম অনুভূতি!

মোঃ জাফর ইকবাল:
কক্সবাজার জেলার জনপ্রিয় দৈনিক হিমছড়ি পত্রিকার আনন্দ ভ্রমণে ২০ নভেম্বর ভোর ৬টায় সরাসরি স্পেশাল সার্ভিস বাস দিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। সকাল ৮টায় উখিয়া নামক স্থানে পৌছলে উখিয়া প্রতিনিধি পলাশ বড়ুয়া সবার জন্য নাস্তা নিয়ে গাড়ীতে উঠেন। ঈদগাঁও প্রতিনিধি এইচএন আলম আমরা সবাইকে নাস্তার ভাগ বাটোয়ারা করে দেন। সকাল ১০টায় টেকনাফ জাহাজ স্টেশনে পৌছলাম। পৌছার পর সবাই জাহাজে উঠে ১০টা ৪০ মিনিটে জাহাজটি ছেড়ে দেয়। আমরা সবাই জাহাজের মধ্য তলায় বসলাম।

সকাল ১১টায় জাহাজের কক্ষে দৈনিক হিমছড়ি প্রতিনিধি সভা শুরু করেছি। দৈনিক হিমছড়ি পত্রিকার ম্যানেজার মাওলানা এহেছানুল হকের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দৈনিক হিমছড়ি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছৈয়দ আলমের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক হিমছড়ি পত্রিকার অফিস সহকারী প্রধান হুমায়ুন সিকদার, ঈদগড় প্রতিনিধি জাফর ইকবাল, বাইশারী প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি আবুল বশর নয়ন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি এইচএন আলম, উখিয়া প্রতিনিধি পলাশ বড়ুয়া, পেকুয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাবুল, চকরিয়া প্রতিনিধি আবদুল মজিদ, রামু প্রতিনিধি ফরমান, হিমছড়ি অফিস কর্তৃপক্ষ কাউছার, মাহবুবুল আলম, ইমন বড়ুয়া, আবু সুফিয়ান, দৈনিক হিমছড়ি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, হাসানুর রশিদ প্রমুখ।

সেন্টমার্টিন পৌছার আগে আলোচনা সভা শেষ হয়। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সবাই সেন্টমার্টিন পৌছে গেছি। সেখানে হোটেল সী প্রবালে গিয়ে ১০টি রুম নিয়েছি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর ২টা ৩০ মিনিটে সবাই বসে সুরমা মাছ, ডাল দিয়ে খাওয়া দাওয়া করেছি। বিকাল ৩টায় হেটে হেটে খেলাধুলা করলাম। সন্ধ্যা ৬টায় ড্র দিয়ে সবার মন জয় করেছে। সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সবাই আমাকে গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে আমি আমরা সাংবাদিক, আমরা লেখক, এ মাটি মানুষের বন্ধু স্বজন শান্তি-শৃঙ্খলা রাখব আমরা নিবেদিত প্রাণ আর নিবেদিত মন। “সাংবাদিক হতে লাগে মিড়া, লাগিলে না ছুড়ে মিড়া, তবু মাইনসে সাংবাদিত হতে চায়, সাংবাদিক হই এ জীবনে জিয়ল হাইট্টে বহুত জনে, তবু মাইনসে সাংবাদিত হতে চায় কিল্লাই, সাংবাদিকতার মজা ন ফুরার। বসন্ত কাল আইলে গাছত ফুটে নানান ফুল, সাংবাদিকর লেখালেখিত অনেক থাকে ভুল।” এভাবে দুটি গান পরিবেশন করেছি। সবাই এ গান নিয়ে আনন্দ খুশি মজা করেছে। এ গান নিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক ভাইয়েরা আমার সুনাম করে পত্রিকায় নিউজ ছাপিয়েছে। এরপরে কম্পিউটার ম্যান ইমন বড়ুয়া অনেক সুন্দর গান করেছে। পেকুয়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাবুল একটি আঞ্চলিক গান করেছে। এরপরে রাত ৮টায় সবাই খাওয়া-দাওয়া করে হোটেল কক্ষে গিয়ে পুনরায় সবাই গান করেছি। ছৈয়দ আলম ভাই অনেক সুন্দর সুন্দর কৌতুক করেছে। আমার খুব ভাল লেগেছে ইমন বড়ুয়ার গানটি খুব মন জয় করেছে। এছাড়া আবদুল মজিদ, আবুল বশর নয়ন, এইচএন আলম, মাহবুব, ফরমান, মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ বাবুল, পলাশ বড়ুয়াসহ সম্পাদক মহোদয়ের সামনে সবাই গান করেছে। খুব আনন্দিত হয়েছি আমার জীবনে আমি এরকম আনন্দের জায়গায় যাইনি। রাত ১২টায় সবাই ঘুমিয়ে পড়েছি। পরদিন সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে কেউ খেলাধুলা করেছে, কেউ ভ্রমণ করেছে, সকাল ৮টায় সবাই বসে খিচুড়ী ভাত খেয়েছি।

সেন্টমার্টিন ঘূরে দেখেছি সাড়ে ৩ হাজার ভোটার রয়েছে। ৮ হাজার মত জনসংখ্যা রয়েছে। ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন পুরুষ মেম্বার, ৩ জন মহিলা মেম্বারসহ একটি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে ৭/৮ জন মত পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া স্কুল-মাদ্রাসায় নিয়মিত ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করছে। জায়গাটি হচ্ছে খুব সুন্দর, পাশের্^ প্রস্থে সাড়ে ৩ কিলোমিটার, লম্বা ৭ কিলোমিটার। হাজার হাজার নারকেল গাছ রয়েছে। একটি ডাব ৭০/৮০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি নারকেল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। সেখানে বিদ্যুৎ নাই, ব্রিক ফিল্ড নাই। সবার ঘরবাড়ি ইট দিয়ে তৈরি।

সেখানে ঘোরাঘুরিতে দেখলাম সবাই টাকা-পয়সার অভাব নাই। একজন ভিক্ষুকও নাই। কক্সবাজারের লোক বললে তারা অনেক সম্মান করে। একটি সড়ক আছে। সড়কটি কংক্রিটের ঢালাই। সে সড়ক দিয়ে ভ্যান গাড়ি, বাই সাইকেল চলাচল করে। ভ্যান গাড়ির মধ্যে উপরে ছাউনি দিয়ে যাত্রী বহন করে। টমটম, বাস, সিএনজি এ জাতীয় কোন গাড়ী নেই।

বিকাল ৩টায় সবাই বসে খাওয়া-দাওয়া করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। পানির জাহাজে উঠার পরে কেউ সিট পেয়েছে, কেউ পায়নি। আমরা সবাই বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেছি। জাহাজ ছাড়ার পরে দেখলাম নাফ নদী, মায়ানমারের ব্রিকফিল্ড, টাওয়ার, মসজিদ, মন্দিরসহ সবকিছু দেখেছি।

সন্ধ্যা ৬টায় টেকনাফ জাহাজ স্টেশনে পৌছার পরে সরাসরি স্পেশাল সার্ভিসের বাস দিয়ে কক্সবাজার রওয়ানা দিই। গাড়ীতে আমাকে সম্পাদক মহোদয়সহ সবাই আবার অনুরোধ করেন কবিতা পড়ার জন্য। আমি সেন্টমার্টিন নিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম। উখিয়া প্রতিনিধি পলাশ বড়ুয়া গাড়ী থেকে নামার পর সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। লিঙ্ক রোড এসে আমি শেষ বারের মত বিদায় নিয়ে বাড়ীমুখী হলাম।