পেকুয়ায় চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব, নীরব প্রশাসন

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া:
পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের মাঝের ঘোনা এলাকায় পাহাড় কাটার রীতিমতো মহোৎসব চললেও তা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। অবশ্য প্রশাসন বলছে, তারা থেমে নেই; শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রশাসনের চোখের সামনেই বিরামহীনভাবে কাটা হচ্ছে এসব পাহাড়। পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও খবর নেই বনবিভাগের। ঘটনাস্থলের খুব কাছে থেকেও তারা যেন কিছুই দেখেনা। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ওই এলাকা ও এর আশেপাশের এলাকা জুড়ে থাকা পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতার নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পাহাড় কেটে চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নীরব। এ কারণে ওই ইউনিয়নসহ উপজেলার আরো দুই পাহাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে পাহাড় কাটা। প্রতিদিন ব্যাপকহারে পাহাড় কাটার ফলে উপজেলা বনাঞ্চল হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়রা আরো জানান, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, লাইন্সেন ও বৈধ কাগজপত্র বিহীন এসব ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ি মাঠি ও বনাঞ্চলের কাঠ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়েও দেখা গেল একই চিত্র। শীলখালীর পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পাহাড়ের মাটি কাটা হচ্ছে। প্রায় ডজনখানেক ট্রাক সে মাটি নিয়ে যাচ্ছে বাইরে। এসব মাঠির একটি অংশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, আ’লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছেমতো যেনতেনভাবে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে শিলখালী ইউনিয়নের এতিম খানা এলাকার গোলাম কাদেরের পুত্র আজিজুর রহমান প্রকাশ আজু।

এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আজু পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি বনবিভাগ ও থানার ক্যাশিয়ারকে টাকা দিয়ে পাহাড় কাটছি। আমরা পাহাড় কাটলে যত দোষ ! আওয়ামীলীগ নেতারা কাটলে কোন দোষ নাই ?” কোন আ’লীগ নেতা পাহাড় কাটছে প্রশ্ন করলে তিনি, “উপজেলা আ’লীগের সিনিয়ন এক নেতার নাম বলেন।”

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলার সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা এর আগেও অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপের কারণে আমরা তাতে সফল হতে পারিনি। কয়েকদিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় সবার সাথে কথা বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ পাহাড় কাটা বন্ধ করা হবে।”

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, “পাহাড় কাটার সাথে জড়িতরা যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। আমি ছুটিতে পেকুয়ার বাইরে থাকলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।”