নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বাহিনীর পতাকা বৈঠক আটককৃত ৯১ জেলেকে মিয়ানমারে ফেরত

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে এক বছর কারাভোগের পর মিয়ানমারের ৯১ জন নাগরিককে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ঢেঁকিবনিয়া বিজিপি ক্যাম্পে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মিয়ানমার নাগরিককে হস্তান্তর করা হয়। বৈঠকে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও হয়েছে বলে জানা যায়।

উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্বদেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ইমরান উল্লাহ সরকার। এছাড়া ও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার বিজিবির ভারপ্রপ্ত সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এম এম আনিসুর রহমান পিএসসি।

মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্বদেন মংডু ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশন্যাল রেজিষ্টশন ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডাইরেক্টর মিঃ কেউ কেউ (চ্য চ্য)।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিজিবি, সেক্টর সদর দপ্তর, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পরিচালক অপারেশন, মেজর মোঃ আব্দুস ছালাম, মেজর মোঃ আবুল খায়ের জি, সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া ও উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের প্রতিনিধিবৃন্দ।

অপর দিকে মিয়ানমারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, মিয়ানমার বিজিপি এবং ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্টেশন ডিপার্টমেন্ট এর প্রতিনিধিবৃন্দ।

bgb-2-copy

সকাল ১১ টায় শুরু হওয়া বৈঠক দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। উক্ত বৈঠকে উভয় প্রতিনিধি দলের প্রধানগণ প্রথমে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর পর গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশ জল সীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কতৃক আটককৃত ৯১ জন (মৃত শুক্কুর আলী ব্যতীত) মিয়ানমারের জেলেদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাচাইকৃত ৯১ জন মিয়ানমার মৎস্য জীবিদের কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিকট হইতে গ্রহণ করে ৩৪ বিজিবি কর্তৃক ঘুমধুম সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সেতু দিয়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের নিমিত্তে মিয়ানমার ইমেগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্টেশন ডিপার্টমেন্ট এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মিয়ানমার নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষে আয়োজিত উক্ত পতাকা বৈঠক অত্যান্ত ফলপ্রসু ছিল এবং তা সৌহার্দাপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়। মিয়ানমারে হস্তান্তরকৃত রামবেরী জেলার কেলাবন গ্রামের জয়নাল আবেদিন, হামিদ হোসাইন, মোঃ করিম, আহম্মদ খান, আবু তাহের, মোঃ শরিফ ও আকিয়াব জেলার আব্দুল মালেক, আব্দুস সত্তার, মোঃ মুফিজ, মঞ্জুর আলী, আব্দুল মোনাফ, জাফর আলম, ছৈয়দ হোসাইন, কোরবান আলী, আব্দুস সত্তার, শুক্কুর মিয়া, কোরবান আলী, মোঃ হারুন, মোঃ হোসাইন, মোঃ আয়ুব, ওজির আহম্ম, মোঃ শফি গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, তাঁরা কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জেল খানায় বন্ধি জীবন যাপন করলেও তাঁদের কোন সমস্য হয়নি। জেলখানায় তারা কোন ধরনের অসুবিধার সম্মূখিনে পড়েনি।