রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর বর্বরতা-নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

খালেদ শহীদ/সোয়েব সাঈদ/হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী:
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অধিকার দিন, রোহিঙ্গারা রাষ্ট্র পরিচয়হীন কেন, রুখো সাম্প্রদায়িকতা জাগো বিশ্ব মানবিকতা, উগ্রতার পথ পরিচার করো এসব স্লোগানে রামুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানববন্ধন।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর বর্বরতা-নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ১টায় রামু চৌমুহনী চত্তরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, ‘আমাদের রামু ডটকম’ সম্পাদক রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সহকারী পরিচালক শীলপ্রিয় থের, রামকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ কে শ্রী জ্যোতিসেন থের, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়ুয়া, রামু বৌদ্ধ যুব পরিষদের আহ্বায়ক রজত বড়ুয়া, যুগ্ম-আহ্বায়ক বিপুল বড়ুয়া আব্বু, রাজারকুল ইউপি সদস্য রিটন বড়ুয়া প্রমুখ।

mb-2-copy
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়ন করতে গিয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের সবটাই করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কোন রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার সর্বশেষ ভরসাস্থল সামরিক বাহিনী একই রাষ্ট্রের অধিকারবঞ্চিত একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির উপরে এতটা নির্দয় এবং বর্বর হয়ে উঠতে পারে না। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেই জঘন্য কাজটি-ই করছে। বক্তারা বলেন, জঙ্গি বা সন্ত্রাসী দমনের নামে একজন সাধারণ মানুষও যদি নিহত হয় সেটাও ঘোর অন্যায় এবং মানবাধিকারের ঘোর লঙ্ঘন। মিয়ানমার স্বীকার করুক বা না-ই করুক রোহিঙ্গারা ঐতিহাসিকভাবে সেদেশের অধিবাসী। অধিবাসী না হলেও হত্যা কিংবা নির্যাতন করা যাবেনা।

রোহিঙ্গা সমস্যার সুরাহা করতে হবে মিয়ানমারকেই উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কুটনৈতিক শিষ্টাচার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা উচিত। প্রয়োজনে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান চাইলে কার্যকর উদ্যোগ নিতে-ই হবে।

mb-3-copyবক্তব্যে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বলেন, মিয়ানমার এখনো সামরিকজান্তা শাসনমুক্ত হতে পারেনি। মিয়ানমারে এখন যে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে তা হল সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র। তার উপরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে ভাল নয়। এরপরও মানবতার উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন হচ্ছে জেনেও অং সান সুচির নিরবতা আমাদের হতবাক করেছে।

মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারেই থাকতে হবে। নির্যাতিত হয়ে নয়, রাষ্ট্র পরিচয়হীন হয়ে নয়, তারা নিজেদের মাতৃভূমিতে থাকবে নিজ জাতিসত্তার পরিচয় নিয়ে নাগরিক হিসেবে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেই নেতৃত্ব-ই রোহিঙ্গাদের কাজে আসবে যে নেতৃত্ব রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন, মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

15179093_1090667004380758_1451297954364817209_nবক্তারা বলেন, সকল রোহিঙ্গা তো জঙ্গি হতে পারেনা। দমন পীড়নের পর থেকে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। মিয়ানমার এটাকেও অস্বীকার করছে। বিশ্বময় মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উপর যতটা আন্তর্জাতিক অনুরোধ এবং চাপ আছে ততটা মিয়ানমারের উপর নেই।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর বর্বরতা এবং নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে ও মানবাধিকারের ঘোর লঙ্ঘনের প্রতিবাদে রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান এবং একই সাথে নিপীড়ন বন্ধ করার জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে জোর দাবি জানান রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়।

15178046_1090664361047689_1220274991929124348_nগত সোমবার সকালে একই স্থানে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রামু উপজেলার রাখাইন সম্প্রদায়। মানববন্ধনে মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ এবং সাধারণ মানুষদের রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ নৃশংসতার ঘটনায় রহস্যজনক ভূমিকা পালন করায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

unnamed-copyওই মানববন্ধনে রাখাইন সম্প্রদায়ের বহু নারী-পুরুষ ও শিশু, সহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।